বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, জুনেই ৩০ বিলিয়ন ডলার ছোঁয়ার পূর্বাভাস
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
- / 86
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আগামী অর্থবছরে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের কথাও জানান।
বুধবার রাজধানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ পূর্বাভাস তুলে ধরেন।
গভর্নর বলেন, “পরবর্তী মাসে রিজার্ভ ২৭ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকবে বলে আশা করছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য আগামী অর্থবছরের মধ্যে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মে ২০২৫ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গৃহীত BPM6 হিসাব পদ্ধতিতে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
অনুষ্ঠানে ড. মনসুর ক্ষুদ্রঋণ খাত সম্পর্কেও মত দেন। তিনি বলেন, “২৬ শতাংশ সুদের হারে ক্ষুদ্রঋণ চালু রাখা আর সম্ভব নয়। গ্রাহকরা এখন এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে অনেক কম সুদে ঋণ পাচ্ছেন। ফলে উচ্চ সুদের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না এবং ধীরে ধীরে বাজার থেকে বাদ পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা না থাকলে ভবিষ্যতে এ খাত সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।”
বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়েছে। একদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ আর্থিক শৃঙ্খলা, বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তি, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের উন্নয়ন অপরিহার্য।














