বাংলাদেশ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবে জনগণ, চাপ দেবে না ইইউ

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
  • / 59

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোনো চাপ প্রয়োগ করবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন কবে হবে, তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ ও সংবিধান। ইইউ কোনো নির্দিষ্ট সময় চাপিয়ে দেবে না।”

গতকাল (৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন একটি রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই রূপান্তরের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে সংস্কারে কাজ করবে।”

তিনি জানান, ইইউ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী এবং পরবর্তী নির্বাচনকে “রাজনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” হিসেবে বিবেচনা করছে।

জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মিলার জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “এই ঘটনায় যারা অপরাধে যুক্ত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সম্প্রতি দলটির প্রতিনিধিরা ব্রাসেলসে সফর করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, “রাখাইনে রোহিঙ্গারা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। আমরা একটি রাজনৈতিক সমাধান চাই। ২০১৭ সাল থেকে ইইউ ৫০ কোটি ইউরোর বেশি সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু তা কমে আসছে। এখন আমরা রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই।”

মানবিক করিডরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “যদি রোহিঙ্গারা সীমান্তের ওপারে থাকেন, তাহলে তাদের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক চ্যানেল গড়ে তুলতে হবে।”

সংবিধানসম্মত নির্বাচন, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং মানবাধিকার, এই তিনটি বিষয়েই ইইউর অবস্থান পরিষ্কার, এমনটাই উঠে আসে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবে জনগণ, চাপ দেবে না ইইউ

আপডেট সময় : ০১:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোনো চাপ প্রয়োগ করবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন কবে হবে, তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ ও সংবিধান। ইইউ কোনো নির্দিষ্ট সময় চাপিয়ে দেবে না।”

গতকাল (৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন একটি রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই রূপান্তরের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে সংস্কারে কাজ করবে।”

তিনি জানান, ইইউ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী এবং পরবর্তী নির্বাচনকে “রাজনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” হিসেবে বিবেচনা করছে।

জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মিলার জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “এই ঘটনায় যারা অপরাধে যুক্ত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সম্প্রতি দলটির প্রতিনিধিরা ব্রাসেলসে সফর করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, “রাখাইনে রোহিঙ্গারা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। আমরা একটি রাজনৈতিক সমাধান চাই। ২০১৭ সাল থেকে ইইউ ৫০ কোটি ইউরোর বেশি সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু তা কমে আসছে। এখন আমরা রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই।”

মানবিক করিডরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “যদি রোহিঙ্গারা সীমান্তের ওপারে থাকেন, তাহলে তাদের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক চ্যানেল গড়ে তুলতে হবে।”

সংবিধানসম্মত নির্বাচন, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং মানবাধিকার, এই তিনটি বিষয়েই ইইউর অবস্থান পরিষ্কার, এমনটাই উঠে আসে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে।