ভিজিট ভিসায় হজ পালনে কড়া অবস্থানে সৌদি সরকার, সতর্ক করল বাংলাদেশও
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
- / 49
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি হজ মৌসুমে ভিজিট ভিসা ব্যবহার করে হজ পালনের প্রবণতা রোধে কড়া অবস্থান নিয়েছে সৌদি সরকার। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারও সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি জারি করেছে বিশেষ সতর্কতা।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুমোদিত হজ পারমিট ব্যতীত কেউ হজ পালনের চেষ্টা করলে তাকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ টাকা) জরিমানা করা হবে। পাশাপাশি, তাকে হজ পালনে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ এক লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩২ লাখ টাকা) জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
শুক্রবার (২ মে) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিজিট ভিসায় মক্কা নগরী বা আশপাশের পবিত্র স্থানসমূহে প্রবেশ এবং হজ পালনের যেকোনো চেষ্টাই সৌদি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত যানবাহন আদালতের নির্দেশে বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে এবং তাকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারসহ পরবর্তী ১০ বছর দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
সৌদি সরকারের ঘোষণানুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে হিজরি জিলকদ মাসের ১ তারিখ থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত, যা চলতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সময়ে পড়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা ভিজিট ভিসাধারী, তাদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন হজ মৌসুমে মক্কা ও আশপাশের পবিত্র স্থানসমূহে প্রবেশ না করেন। আইন লঙ্ঘন করলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মধ্যে কেউ আইন লঙ্ঘন করলে তা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
ধর্ম সচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামানিক বলেন, “হজ একটি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সমাবেশ, যেখানে সৌদি সরকারের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্ব সম্মিলিতভাবে অংশ নেয়। এই ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকে যথাযথভাবে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”














