দুর্গম অঞ্চলেও মিলবে উচ্চগতির ইন্টারনেট, Elon Musk-কে নিজেই ফোন করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলো স্টারলিংক
- আপডেট সময় : ০১:৪১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
- / 62
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স অনুমোদন করেছেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে।
প্রেস উইং-এর বিবৃতিতে বলা হয়, স্টারলিংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এর ফলে শ্রীলঙ্কার পর দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে স্টারলিংক কার্যক্রম চালু করছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, “জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে স্টারলিংক চালুর দাবি জোরালো হয়। সেই দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।”
তিনি আরও জানান, দেশের হাওর, দ্বীপ, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে এখনো ফাইবার সংযোগ পৌঁছায়নি, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছাতে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্পেসএক্স সিইও ইলন মাস্ককে ফোন করে ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যৌথভাবে কাজ করেছে।
ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, “লোডশেডিং চলাকালে মোবাইল টাওয়ার বা আইএসপির ব্যাটারি নিঃশেষ হয়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্টারলিংক সে সমস্যার টেকসই সমাধান দেবে।”
বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার ফাইবার সংযোগের বাইরে এবং মাইক্রোওয়েভ নির্ভর। স্টারলিংক এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টারলিংকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেবা গ্রহণে একটি বিশেষ কিট (অ্যান্টেনা, রাউটার, তার ও পাওয়ার সাপ্লাই) কিনতে হবে, যার দাম ৩৪৯ থেকে ৫৯৯ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৩ হাজার থেকে ৭৪ হাজার টাকা)। বাসাবাড়ির গ্রাহকদের মাসিক ফি ১২০ ডলার (প্রায় ১৫ হাজার টাকা), করপোরেট গ্রাহকদের খরচ আরও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্টারলিংকের আগমনে বাংলাদেশের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গতি আসবে এবং ডিজিটাল বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে।














