বাংলাদেশ ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনার জন্য চীনের কাছে ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যানের আহ্বান

  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
  • / 92

 

বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য চীনের কাছ থেকে ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গোইয়িং-এর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস চীনের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বলেন, চীন এই খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি চীনা মন্ত্রীকে জানান, “আপনাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, আমাদের দেশেও একই ধরনের সমস্যা বিদ্যমান। যদি আপনারা আপনাদের অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, তাহলে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ অঞ্চল, যেখানে শত শত নদী প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আমাদের জন্য জীবনদায়ী হলেও অনেক সময় এটি ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে নদীর তীরবর্তী ভূমিগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, পলি জমার কারণে নতুন নতুন ভূখণ্ড সৃষ্টি হচ্ছে, যা কখনো কখনো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমাদের নদীগুলোকে সুসংহতভাবে রক্ষা করতে হবে।” একইসঙ্গে, তিনি বাংলাদেশের নদী সংরক্ষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গোইয়িং স্বীকার করেন যে চীন ও বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনায় একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ জনগণ বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করে, যা পানি ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে। আমাদের প্রেসিডেন্ট শি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যা চীনের পানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একইভাবে, বাংলাদেশও আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।”

প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ঢাকার চারপাশের দূষিত পানি পরিষ্কারকরণ প্রকল্পে চীনের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যা শুধু একটি নির্দিষ্ট নদীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গেই সম্পর্কিত।”

বর্তমানে, অধ্যাপক ইউনূস চীনে চার দিনের সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি চীনা নেতৃবৃন্দ ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনার জন্য চীনের কাছে ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যানের আহ্বান

আপডেট সময় : ০২:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

 

বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য চীনের কাছ থেকে ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গোইয়িং-এর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস চীনের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বলেন, চীন এই খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি চীনা মন্ত্রীকে জানান, “আপনাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, আমাদের দেশেও একই ধরনের সমস্যা বিদ্যমান। যদি আপনারা আপনাদের অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, তাহলে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ অঞ্চল, যেখানে শত শত নদী প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আমাদের জন্য জীবনদায়ী হলেও অনেক সময় এটি ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে নদীর তীরবর্তী ভূমিগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, পলি জমার কারণে নতুন নতুন ভূখণ্ড সৃষ্টি হচ্ছে, যা কখনো কখনো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমাদের নদীগুলোকে সুসংহতভাবে রক্ষা করতে হবে।” একইসঙ্গে, তিনি বাংলাদেশের নদী সংরক্ষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গোইয়িং স্বীকার করেন যে চীন ও বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনায় একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ জনগণ বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করে, যা পানি ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে। আমাদের প্রেসিডেন্ট শি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যা চীনের পানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একইভাবে, বাংলাদেশও আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।”

প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ঢাকার চারপাশের দূষিত পানি পরিষ্কারকরণ প্রকল্পে চীনের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যা শুধু একটি নির্দিষ্ট নদীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গেই সম্পর্কিত।”

বর্তমানে, অধ্যাপক ইউনূস চীনে চার দিনের সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি চীনা নেতৃবৃন্দ ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।