বাংলাদেশ ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবু সাঈদের ‘ভাস্কর্য’ চায় না পরিবার

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫
  • / 71

 

বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ২০ ফুট দীর্ঘ ‘ভাস্কর্য’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে পরিবারের আপত্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবু সাঈদের ভাস্কর্য চান না এবং এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভাস্কর্যের পক্ষে নই। ইতোমধ্যে ওর বন্ধুরা ফেসবুকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, আমিও তাদের সঙ্গে একমত।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ তাদের নয়, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পরিকল্পনা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ আগস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ভাস্কর্য নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তার পিতা মকবুল হোসেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজাহারুল ইসলাম শেখ জানান, আবু সাঈদের ২০ ফুট দীর্ঘ ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং তারা পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করবে।”

চারুকলা অনুষদ জানায়, নববর্ষের শোভাযাত্রায় এই আয়োজন জুলাই আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরার জন্য করা হচ্ছে। তবে পরিবারের মতামত বিবেচনায় বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ১৯৮৯ সাল থেকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ আয়োজন করে আসছে, যা পরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিতি পায়। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে অমঙ্গল দূর করার বার্তা দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবু সাঈদের ‘ভাস্কর্য’ চায় না পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

 

বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ২০ ফুট দীর্ঘ ‘ভাস্কর্য’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে পরিবারের আপত্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবু সাঈদের ভাস্কর্য চান না এবং এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভাস্কর্যের পক্ষে নই। ইতোমধ্যে ওর বন্ধুরা ফেসবুকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, আমিও তাদের সঙ্গে একমত।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ তাদের নয়, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পরিকল্পনা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ আগস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ভাস্কর্য নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তার পিতা মকবুল হোসেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজাহারুল ইসলাম শেখ জানান, আবু সাঈদের ২০ ফুট দীর্ঘ ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং তারা পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করবে।”

চারুকলা অনুষদ জানায়, নববর্ষের শোভাযাত্রায় এই আয়োজন জুলাই আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরার জন্য করা হচ্ছে। তবে পরিবারের মতামত বিবেচনায় বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ১৯৮৯ সাল থেকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ আয়োজন করে আসছে, যা পরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিতি পায়। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে অমঙ্গল দূর করার বার্তা দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।