সন্তান না হওয়া গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যায় শাশুড়ী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩
- / 356
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে শশুর রহিজল হক (৪৮), সৎ শাশুড়ী সালেহা খাতুন (৪০) ও দেবর সানোয়ার (২০) এর পিটুনিতে তাসলিমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯ টায় চর রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত তাসমিলা বেগম জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মৌলভীরচর এলাকার মৃত আব্দুস সালামের মেয়ে।
জানা যায়, ১০ বছর আগে বদরপুরের রহিজল হকের পুত্র মুকুল হোসেনের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় তাসলিমার। বিয়ের পর থেকেই শারিরীক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করা হতো তাকে।
নিহত তাসলিমার দেবরের স্ত্রী মোমেনা খাতুন জানান, বিয়ে হওয়ার ১০ বছর অতিবাহিত হলেও কোনো সন্তান না হওয়ায় মাঝেমধ্যেই তাসলিমাকে শশুর বাড়ির লোকজন শারিরীক ভাবে নির্যাতন করতো। আমারও তিন বছর হলো বিয়ে হয়েছে, আমাকেও নির্যাতন করে। তারা একটু ত্রুটি পেলেই নির্যাতন করে। নির্যাতন করাটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেশী লাল মিয়া ও আব্দুল লতিফ বলেন, মেয়েটা অনেক সহজ-সরল। তাসলিমার স্বামী কাজ করতে যখনই ঢাকায় যায় তখনই অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে দেয় তার সৎ শাশুড়ী, শশুর ও দেবর। আজ এমনভাবে মেয়েটাকে মেরেছে যে মরেই গেছে। আমরা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
প্রত্যক্ষদর্শী মরিয়ম আক্তার বলেন, বাথরুমের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তাসলিমাকে তার দেবর সানোয়ার সরে যেতে বললে সরতে একটু দেরি হয়। এ নিয়েই দেবরের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার সৎ শাশুড়ি গিয়ে তাকে লাথি ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। পরে তার শশুর রহিজল, দেবর সানোয়ার আরও মারধর করে। এক পর্যায়ে শশুর, শাশুড়ী ও দেবর মিলে এলোপাতাড়ি পেঁটায় তাসলিমাকে। আমি মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমাকেও তারা মারতে আসে। পরে চিৎকার করলে এলাকার মানুষ এগিয়ে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিউল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে।তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের দাগ ছিলো।
চর রাজিবপুর থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চর রাজিবপুরের বদরপুর এলাকায় এক গৃহবধূ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি তবে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।













