বাংলাদেশ ০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

প্রতিনিয়তই নাব্যতা হারাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩
  • / 224

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর ও রৌমারী এলাকার উত্তর—দক্ষিণে চোখের দৃষ্টি দিলে দেখা মেলে সংকীর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদের রেখাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ।ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তিস্থল হিমালয় পর্বতমালায়। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর ও রৌমারি সংলগ্ন এলাকা দিয়ে এ নদের প্রবেশ। নদের বিস্তীর্ণ বুকজুড়ে জেগে ওঠেছে বালুচর। নেই দু’কূল ভাঙা উত্তাল স্রোতের রাশি। গভীরতাহীন এ নদে পানির স্রোতধারা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। ঠিক যেন কল্পনার মরুভূমি। বর্ণনা করছিলাম ব্রহ্মপুত্র নদের আত্মকাহিনী । এ নদ শুধু নাব্যতা সংকটেই নয়, রয়েছে অস্তিত্ব সংকটেও । পানিশূন্যের কারণেই নদের এমন অবস্থা ।নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ম্যাপ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ। পানি বিপর্যয়ের কারণে কৃষি সেচ ব্যবস্থার ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমন অবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নৌ—রুটে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর লঞ্চঘাট, মোহনগঞ্জ, কোদালকাটি, মোগলভাবাসা, চিলমারী নৌ বন্দর, উলিপুর ফকিরের হাট, বদলমারা, ঘুঘুমারি খেওয়ারচর, কতিমারি ও নয়াচর নৌ—রুটে নৌ—যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় করতে পারছে না । নৌ—যান নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অনেকটা পথ ঘুরে । এ কারণে বেড়েছে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পারাপারের ব্যাপক ভোগান্তি । ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌ—রুটে নৌ—যান চলাচল । এতে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা, মুমূর্ষ রোগী, মামলার আসামি, চাকুরীজীবী ও কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।

নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি যৌবন আর লাবণ্যহীন ব্রহ্মপুত্রের এমন হালে এ নদের পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে হতাশা আর আক্ষেপের সুর । নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের মাত্রা কমছে। পানির সংকটে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ বর্ষাকাল ছাড়া বাকি
মৌসুমে থাকে পানিশূন্য মরুময়। বছরের পর বছর গড়ালেও ব্রহ্মপুত্র নদ খনন না হওয়ায় এর ভাগ্যাকাশে জমেছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।
অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্রে বালু উত্তোলনের নামে চলছে বাণিজ্যের অস্থিরতা। ঘাটে—ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র বিভিন্ন স্থানে চলছে অসংখ্য ড্রেজার মেশিন । যা এলাকার লোকজনের কাছে নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে । এসবই এখন খুবই সাধারণ বিষয় । বর্ষাকালে ব্রহ্মপুত্রে থাকে ডুবোচর। শুষ্ক মৌসুমে কোনো কোনো স্থানে থাকে চোরাবালি। এ চোরাবালি কোনো রহস্য নয়। এর মূল কারণ ড্রেজার । বালু উত্তোলনের জন্য
ব্রহ্মপুত্রের বিভিন্ন স্থানে দিন—রাত অবৈধ ড্রেজার চালানো হয়।

সর্বশেষ ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডবিউটিএ এর চিলমারী নৌ বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, কিছুদিন থেকে চিলমারী পয়েন্টেখনন কাজ চলছে । তবে অন্য পয়েন্ট গুলোতে পর্যায়ক্রমে খনন কাজ করা হবে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রতিনিয়তই নাব্যতা হারাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর ও রৌমারী এলাকার উত্তর—দক্ষিণে চোখের দৃষ্টি দিলে দেখা মেলে সংকীর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদের রেখাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ।ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তিস্থল হিমালয় পর্বতমালায়। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর ও রৌমারি সংলগ্ন এলাকা দিয়ে এ নদের প্রবেশ। নদের বিস্তীর্ণ বুকজুড়ে জেগে ওঠেছে বালুচর। নেই দু’কূল ভাঙা উত্তাল স্রোতের রাশি। গভীরতাহীন এ নদে পানির স্রোতধারা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। ঠিক যেন কল্পনার মরুভূমি। বর্ণনা করছিলাম ব্রহ্মপুত্র নদের আত্মকাহিনী । এ নদ শুধু নাব্যতা সংকটেই নয়, রয়েছে অস্তিত্ব সংকটেও । পানিশূন্যের কারণেই নদের এমন অবস্থা ।নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ম্যাপ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ। পানি বিপর্যয়ের কারণে কৃষি সেচ ব্যবস্থার ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমন অবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নৌ—রুটে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর লঞ্চঘাট, মোহনগঞ্জ, কোদালকাটি, মোগলভাবাসা, চিলমারী নৌ বন্দর, উলিপুর ফকিরের হাট, বদলমারা, ঘুঘুমারি খেওয়ারচর, কতিমারি ও নয়াচর নৌ—রুটে নৌ—যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় করতে পারছে না । নৌ—যান নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অনেকটা পথ ঘুরে । এ কারণে বেড়েছে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পারাপারের ব্যাপক ভোগান্তি । ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌ—রুটে নৌ—যান চলাচল । এতে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা, মুমূর্ষ রোগী, মামলার আসামি, চাকুরীজীবী ও কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।

নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি যৌবন আর লাবণ্যহীন ব্রহ্মপুত্রের এমন হালে এ নদের পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে হতাশা আর আক্ষেপের সুর । নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের মাত্রা কমছে। পানির সংকটে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ বর্ষাকাল ছাড়া বাকি
মৌসুমে থাকে পানিশূন্য মরুময়। বছরের পর বছর গড়ালেও ব্রহ্মপুত্র নদ খনন না হওয়ায় এর ভাগ্যাকাশে জমেছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।
অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্রে বালু উত্তোলনের নামে চলছে বাণিজ্যের অস্থিরতা। ঘাটে—ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র বিভিন্ন স্থানে চলছে অসংখ্য ড্রেজার মেশিন । যা এলাকার লোকজনের কাছে নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে । এসবই এখন খুবই সাধারণ বিষয় । বর্ষাকালে ব্রহ্মপুত্রে থাকে ডুবোচর। শুষ্ক মৌসুমে কোনো কোনো স্থানে থাকে চোরাবালি। এ চোরাবালি কোনো রহস্য নয়। এর মূল কারণ ড্রেজার । বালু উত্তোলনের জন্য
ব্রহ্মপুত্রের বিভিন্ন স্থানে দিন—রাত অবৈধ ড্রেজার চালানো হয়।

সর্বশেষ ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডবিউটিএ এর চিলমারী নৌ বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, কিছুদিন থেকে চিলমারী পয়েন্টেখনন কাজ চলছে । তবে অন্য পয়েন্ট গুলোতে পর্যায়ক্রমে খনন কাজ করা হবে ।