দুই অনুষদের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম
- আপডেট সময় : ১০:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩
- / 150
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: সমন্বিত বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রি চালুর দাবিতে টানা ৪৪ দিন ধরে ক্লাস—পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সমন্বিত ডিগ্রি বন্ধর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।
বুধবার (১৯জুলাই) দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় শিক্ষার্থীদের সমন্বিত ডিগ্রি নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান গান দিতে দেখা যায়।
জানা যায়, গত ৫জুন থেকে ক্লাস—পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। একই সাথে ৭ জুন থেকে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাকৃবির পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরাও। তাদের দাবি মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে ভেটেরিনারি ডিগিধারীদেরও একই পদে নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। ঈদের ছুটি শেষে পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করলেও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে না বলে জানায়।
এ বিষয়ে পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছাজেদা আখতার বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের ক্লাস—পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। তাদের দাবি আদাইয়ের আন্দোলনে আমরা শিক্ষকরা পাশে আছি। কিন্তু তাদের ভালোর জন্য সামনের দিনগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পশুপালন অনুষদ ছাত্র সমিতির সহ—সভাপতি রেজউয়ান উল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জন্য জুনের প্রথম দুই সপ্তাহ আমরা ক্লাস—পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিলাম। পরবর্তীতে করোনাকালীন ক্ষতি মাথায় রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে পুনরায় ক্লাস—পরীক্ষা চালু হয়েছে। তবে আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে আসুক। মূলত চাকরি নিয়ে শঙ্কিত থাকার কারণেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আন্দোলনের বিষয়টির সমাধান পুরটাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের হাতে। শিক্ষকদের হাতে কিছুই নাই। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা মন্ত্রণালয় ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে ভেটেরিনারি অনুষদ ছাত্র সমিতির সহ—সভাপতি মো. শাহরিয়ার খন্দকার বলেন, সমন্বিত ডিগ্রি চালু না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবো না। শিক্ষকরা চাইছেন যেন আমরা ক্লাস—পরীক্ষা শুরু করি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় করেই ক্লাসে ফিরবে।
ক্লাস—পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয় বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির কোনো সমাধান আমার কাছে নাই। আমি শিক্ষার্থীদের কাছে সময় চেয়েছি। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভাব আমি করার চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন যত আগাবে সেশন জট তত বেশি বাড়বে। ইতোমধ্যেই তারা দেড় মাস মতো পিছিয়ে গিয়েছে। সেশন জটের ব্যাপারে অন্ষুদীয় ডিনের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০ মে প্রকাশিত সরকারি চাকরি সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হয় ওই আন্দোল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নন ক্যাডার কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালার কয়েকটি পদে ডক্টর অব
ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রিকে অন্তর্ভুক্ত না করে সমন্বিত ডিগ্রিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ, ১৯ জুলাই (মনোযোগ প্রকাশ.কম)//রাআ বাকৃবি













