রৌমারীতে ক্ষমতাশীন দলের ক্যাডাররা খাস জমি দখল বাণিজ্যে মরিয়া
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩
- / 148
শফিকুল ইসলাম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাশীন দলের ক্যাডাররা সরকারি খাসজমি দখল বাণিজ্যে মরিয়া হয়ে উঠছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা বলেন, অন্যের জমি নিজে দাবী করলে ৭ বছরের জেল। এ আদেশকে অমান্য করে একের পর এক জায়গা দখল, ঘর উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে উপজেলা আ’লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছেন। এ নজির বিহীন ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায়।
স্থানীয় ও বিভিন্ন অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও অসাধু ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজসে সরকারী খাস জমি চিহ্নিত করে রাতের অন্ধকারে লোকবল নিয়ে জায়গা দখল করে ঘর উঠানো হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই ঘরগুলো মোটা অংকের অর্থ নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছে। এমনি নজির বিহীন ঘটনা রয়েছে দাঁতভাঙ্গা, বড়াইকান্দি, রৌমারী, কর্তিমারী, সায়দাবাদ ও চরশৌলমারীসহ ১৭ টি হাটবাজারে। এসব দখল বাণিজ্যে বন্ধের দাবীতে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করেও কোন সুফল পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু—একটি জায়গায় বন্ধের উদ্যোগ নিলেও তা রহস্যজনক কারনে আবারো একই অবস্থা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদশীর্ সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা আকন্দ, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিনু মাষ্টার, আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফ্ফর হোসেনসহ অনেকেই জানায়, অর্থের্র বিনিময়ে গত শনিবার রাতের অন্ধকারে গ্রাম পুলিশ ও ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে আমজাদ হোসেন ও চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নামে ঘর দুটি নির্মাণ করেছিল।
অবৈধ দখলদার আমজাদ হোসেন জানান, এখানকার সকল সম্পত্তি আমার বাব দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি। এক সময় এখানে দোকান ঘর করে চা বিক্রি করতাম। বর্তমানে আমি অসহায় হওয়ায় একটি চায়ের দোকান দেয়ার জন্য ঘরটি নির্মাণ করতে ছিলাম।
ছাত্রলীগ সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ সুজন বলেন, অর্থ নিয়ে অবৈধ ভাবে দোকান ঘর নিমার্ণের বিষয়টি আমি জানিনা। তবে যারা বলেছে মিথ্যা বলেছে। আমজাদের বাড়ি,আমার বাড়ির পাশাপাশি বলে আমি দেখতে এসেছিলাম।
উপজেলা আ’লীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, কে বা কাহারা ঘর উঠাইছে তা আমি জানিনা।
শৌলমারী ইউনিয়ন (ভুমি) কর্মকর্তা রুহুল্যাহ খমেনী বলেন, আমি অফিসে এসে ঘরটি দেখতে পেয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমিকে অবগত করলে তিনি আমাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ঘরটি ভেঙ্গে জব্দ করে রাখি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে ঘর উত্তোলনের বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ঘরটি ভেঙ্গে নির্মাণাধীন সামগ্রী জব্দ করে রাখার নির্দেশ দেই।
ঢাকা, ১৭ জুলাই (মনোযোগ প্রকাশ.কম)//এমজেড













