হজ প্যাকেজ ঘোষণা আগস্টে, খরচ কমানোর পরিকল্পনায় সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / 41
অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের হজে খরচ কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী আগস্ট মাসের শুরুতেই নতুন হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে ধর্ম মন্ত্রণালয়। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী হজ কার্যক্রম এবার আগেভাগেই সম্পন্ন করতে হবে। এ কারণে সময়ের চাপে বাংলাদেশকেও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে তারা সৌদি প্রান্তের খরচ এবং বিমান ভাড়ার চূড়ান্ত নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছেন। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর মাধ্যমে একজন হজযাত্রীর খরচ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর খরচ ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। বেসরকারিভাবে হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা, যার ভিত্তিতে হজ এজেন্সিগুলো তাদের প্যাকেজ তৈরি করে।
জানা গেছে, সৌদি সরকার ইতোমধ্যে তাদের ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালের হজের জন্য বাংলাদেশের কোটা নির্ধারণ করেছে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। তবে গত দুই বছর ধরে কোটা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হবে। অথচ গত বছর হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ হয়েছিল ২৬ ডিসেম্বর। এবার সৌদি রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণ টাকা জমা দিয়ে হজ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ সৌদি আরবে পাঠাতে হবে।
এছাড়া আগামী ৪ জানুয়ারি ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সৌদি সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের বাসস্থান ও পরিবহন চুক্তির জন্য অর্থ স্থানান্তরের কার্যক্রম ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে।
এছাড়াও, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি সই হবে ৯ নভেম্বর। রোডম্যাপ অনুযায়ী সময়মতো প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন না হলে, হজ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কঠোর মনোভাব জানিয়ে দিয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক বলেন,
“আমরা চাই হজের খরচ কম হোক, যাতে সাধারণ মানুষ বেশি হারে হজে যাওয়ার সুযোগ পায়। যদি দুই দেশের উভয় প্রান্তের খরচ যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা যায়, তাহলে সামগ্রিক খরচও কমানো সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, হজ একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় বিষয় হওয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপেই সময়ানুযায়ী সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন (হাব)-এর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকার নিয়মিত বৈঠক করছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে হজ পালনে আগ্রহী মুসল্লিদের জন্য একটি সাশ্রয়ী ও সংগঠিত প্যাকেজ প্রাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগত বছরগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক নজির হতে পারে।













