হাসিনার বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়ায় পাসপোর্ট বাতিল, ১১ মাসেও ফেরত পাননি
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
- / 48
অনলাইন ডেস্ক:
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বাসিন্দা ও বিএনপির সক্রিয় কর্মী মো. বিলাল হোসেন দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। ১৯৯৬ সালে ছাত্রদলের সদস্য থাকা অবস্থায় নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি পোড়ানোর তিনটি মামলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। গ্রেপ্তার এড়াতে ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে পাড়ি জমান। সেখানে বসবাসের পাশাপাশি দীর্ঘদিন পেনাং বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পেনাং শহরে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন বিলাল হোসেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন হাইকমিশনার সরকারের কাছে বিলালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।
এরই প্রেক্ষিতে ১৯ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বিলালের পাসপোর্ট বাতিলের নির্দেশ দেয় এবং মে মাসে তার পাসপোর্ট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর থেকে মালয়েশিয়ায় তিনি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিণত হন। নিজের গড়া ব্যবসা হারিয়ে পথে বসতে হয় তাকে। বর্তমানে পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়, এমনকি দেশে ফিরতেও পারেননি।
বর্তমানে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিলাল হোসেন দূতাবাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে একাধিকবার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত তার পাসপোর্ট ফিরে পাননি। গত ডিসেম্বরে মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর নির্দেশ দিলেও ১১ মাস পার হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
চলতি জুলাই মাসে মালয়েশিয়া হাইকমিশনে যোগাযোগ করেও কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন বিলাল। তার দাবি, হাইকমিশনার তাকে পাসপোর্ট ইস্যু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হয়েও বিদেশে নাম-পরিচয়হীনভাবে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে তাকে।
এ বিষয়ে বিলাল হোসেন বলেন, “স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আমি পাসপোর্ট ফেরত পাচ্ছি না। দূতাবাস আমাকে বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছে। আমি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যেন আমার নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”













