বাংলাদেশ ০২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

‘ছাত্রী মোটা নাকি চিকন হয়েছে’, দেখতে ভিডিও কল দেন ইবি শিক্ষক

  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • / 48

অনলাইন ডেস্ক:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন একই বিভাগের প্রায় ১২ জন ছাত্রী। গত ২২ জুন তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেন বিভাগের সভাপতির কাছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

বিষয়টি ২ জুলাই (বুধবার) প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অভিযোগপত্রে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী উল্লেখ করেন, শিক্ষক আজিজুল ইসলাম তাকে ইমোতে ভিডিও কল দেন, রিসিভ না করলে অডিও কল করেন। এরপর বলেন, “অনেকদিন দেখি না, মোটা হয়েছো না চিকন হয়েছো তা দেখার জন্য ভিডিও কল দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “তোমার কি কথা বলার মতো কেউ আছে? এখন বলছো কেউ নেই, কিন্তু কিছুদিন পর ক্যাম্পাসে দেখবো কারো হাত ধরে ঘুরছো।”

ওই ছাত্রী জানান, ক্লাসে তার উচ্চতা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ঠাট্টা করা, বিয়ের পর ব্যক্তিগত দাম্পত্য জীবন নিয়ে মন্তব্য করা, এমনকি মেন্সট্রুয়েশন সাইকেল নিয়েও সবার সামনে অপমানজনক কথা বলা হতো। এসবের পাশাপাশি শিক্ষক তাকে হুমকি দেন যে, তার কোর্সে ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব হবে না।

অন্য ছাত্রীদের অভিযোগেও উঠে আসে, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠানো, পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়া, রুমে ডেকে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা, পছন্দের ছাত্রীদের প্রজেক্টে যুক্ত করতে চাপ দেওয়া, বডি শেমিং এবং ভিডিও কল না ধরলে ফলাফল খারাপ করার হুমকি দেওয়া ইত্যাদি আচরণ করে আসছিলেন। এতদিন শিক্ষার্থীরা ভয়ে অভিযোগ করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ড. আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে হেনস্তা করিনি। তারা আমার কথাকে ভুলভাবে নিয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একাডেমিক কমিটিতে বিষয়টি উত্থাপন করি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘ছাত্রী মোটা নাকি চিকন হয়েছে’, দেখতে ভিডিও কল দেন ইবি শিক্ষক

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন একই বিভাগের প্রায় ১২ জন ছাত্রী। গত ২২ জুন তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেন বিভাগের সভাপতির কাছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

বিষয়টি ২ জুলাই (বুধবার) প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অভিযোগপত্রে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী উল্লেখ করেন, শিক্ষক আজিজুল ইসলাম তাকে ইমোতে ভিডিও কল দেন, রিসিভ না করলে অডিও কল করেন। এরপর বলেন, “অনেকদিন দেখি না, মোটা হয়েছো না চিকন হয়েছো তা দেখার জন্য ভিডিও কল দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “তোমার কি কথা বলার মতো কেউ আছে? এখন বলছো কেউ নেই, কিন্তু কিছুদিন পর ক্যাম্পাসে দেখবো কারো হাত ধরে ঘুরছো।”

ওই ছাত্রী জানান, ক্লাসে তার উচ্চতা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ঠাট্টা করা, বিয়ের পর ব্যক্তিগত দাম্পত্য জীবন নিয়ে মন্তব্য করা, এমনকি মেন্সট্রুয়েশন সাইকেল নিয়েও সবার সামনে অপমানজনক কথা বলা হতো। এসবের পাশাপাশি শিক্ষক তাকে হুমকি দেন যে, তার কোর্সে ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব হবে না।

অন্য ছাত্রীদের অভিযোগেও উঠে আসে, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠানো, পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়া, রুমে ডেকে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা, পছন্দের ছাত্রীদের প্রজেক্টে যুক্ত করতে চাপ দেওয়া, বডি শেমিং এবং ভিডিও কল না ধরলে ফলাফল খারাপ করার হুমকি দেওয়া ইত্যাদি আচরণ করে আসছিলেন। এতদিন শিক্ষার্থীরা ভয়ে অভিযোগ করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ড. আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে হেনস্তা করিনি। তারা আমার কথাকে ভুলভাবে নিয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একাডেমিক কমিটিতে বিষয়টি উত্থাপন করি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।”