টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকের মদপান ভিডিও ভাইরাল
- আপডেট সময় : ০২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 58
বিশ্বের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে খ্যাত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর আজ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। একসময় পাখির কলতান আর মাছের সমাহারে পরিপূর্ণ এই হাওর এখন পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপ, মাদকদ্রব্য সেবন ও বর্জ্য দূষণে সংকটে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরে বেড়ানোর সময় মদের বোতল হাতে রিলস ভিডিও করছেন এবং মদপানে মেতে উঠছেন। কখনও নৌকায় বসে, কখনও পানিতে ভিজে উন্মাদনার সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশ করছেন ফেসবুকে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে।
পরিবেশ বিষয়ক আইনজীবী সংস্থা বেলা’র নেটওয়ার্ক সদস্য জসীমউদ্দিন জানান, “হাওরে হাউসবোটে মদ সেবনের ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। যখন পানি কমে যায়, তখন মদের বোতল ও প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ে থাকে। এর প্রভাব সরাসরি কৃষি ও পরিবেশে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে হাউসবোটের পর্যটকসংখ্যা ও আগতদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।”
হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, “মদের বোতল হাতে এক নারীর ভিডিও ও ছবি আমাদের নজরে এসেছে। তিনি সম্ভবত কোনো ছোট নৌকা থেকে এসব ভিডিও করেছেন। তার পরিচয় বা কোথা থেকে এসেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাওরের পর্যটন সম্ভাবনার মাঝে এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই দুঃখজনক। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে ‘হাউস’-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, “প্রকাশ্যে মদপান ও ভিডিও করা শুধু বেআইনি নয়, এটি সামাজিক অবক্ষয়েরও বহিঃপ্রকাশ। হাওরের পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষায় দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রতিটি পর্যটকের পরিচয় ও কার্যক্রমের উপর প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে হবে।”
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাসেম জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। হাউসবোট মালিকদের ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
অতিরিক্ত পর্যটন, অনিয়ন্ত্রিত নৌযান চলাচল এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ আজ হুমকির মুখে। হাওর রক্ষায় প্রশাসন, পরিবেশ সংস্থা এবং স্থানীয়দের একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।













