বাংলাদেশ ১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

পুরস্কার না নিয়ে মনু মিয়ার জানাজায় অভিনেতা খায়রুল বাসার

  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • / 50

অনলাইন ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের ইটনার সেই নিঃস্বার্থ মানুষ, যিনি জীবনের প্রায় অর্ধশতাব্দী সময় ব্যয় করেছেন বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননে—মনু মিয়া (৬৭) আর নেই। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। কেবল স্থানীয়রাই নন, দূরের মানুষজনের হৃদয়েও আঘাত হানে এই খবর।

এই সত্যিকারের মানবিক কর্মীর প্রতি ভালোবাসা জানাতে ছুটে যান জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। শনিবার (২৮ জুন) তার একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মনু মিয়ার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তিনি অনুষ্ঠান বাতিল করে সরাসরি ছুটে যান কিশোরগঞ্জের ইটনায়।

সন্ধ্যায় এক প্রতিক্রিয়ায় খায়রুল বাসার বলেন, “মনু কাকা আমার আত্মীয় না হলেও তার জীবনদর্শন আমাকে নাড়া দিয়েছে। কিছুদিন আগে ফোনে কথা হয়েছিল, বলেছিলেন বাড়িতে আসতে। আজ এলাম, কিন্তু জীবিত পেলাম না তাকে। তার ঘর, সরঞ্জাম—সব দেখে মুগ্ধ হলাম। ঠিক যেমন তিনি বর্ণনা করেছিলেন। আমি চোখে দেখলাম একজন সৎ, নির্লোভ, আলোকিত মানুষের শেষ চিহ্নগুলো।”

তিনি আরও বলেন, “পুরস্কার তো জীবনে আরও পাওয়া যাবে। কিন্তু জীবিত অবস্থায় এই মানুষটিকে শেষবার দেখতে না পারার আফসোস সারাজীবন বয়ে বেড়াত। তাই আমি মনে করি, আজ তার জানাজায় থাকা-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল।”

মনু মিয়ার অসুস্থতার সময় সংবাদমাধ্যমে তার নিঃস্বার্থ জীবনের গল্প ভাইরাল হয়। সেসময় কেউ বা কারা তার প্রিয় একমাত্র সঙ্গী ঘোড়াটিকে মেরে ফেলে। তখন খায়রুল বাসার তাকে নতুন ঘোড়া উপহার দিতে চাইলেও মনু মিয়া বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে শুধু সবার কাছে দোয়া চান।

খায়রুল বাসার তখন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন— “আজ এক নায়কের সঙ্গে দেখা হলো আমার। আমি নিজ চোখে এক সত্যিকারের নায়ককে দেখে এলাম, বুক মেলালাম তার সঙ্গে। মনু চাচা দোয়া ছাড়া কিছুই চান না। তিনি আপনাদের জন্য দোয়া করেন, যেন ভালো থাকেন।”

জীবনভর ৩ হাজার ৫৭টি কবর খুঁড়েও তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি, কারও কাছ থেকে উপহারও গ্রহণ করেননি। একাধিকবার বলেছেন, “আমি কবর খুঁড়ি আল্লাহকে খুশি করার জন্য। মানুষের উপকার করি, বিনিময়ে কিছু চাই না।”

মনু মিয়ার মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জবাসী একজন নিঃস্বার্থ সমাজকর্মীকে হারালো, আর পুরো দেশ হারালো এক মৌন মানবিক বাতিঘরকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুরস্কার না নিয়ে মনু মিয়ার জানাজায় অভিনেতা খায়রুল বাসার

আপডেট সময় : ০২:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের ইটনার সেই নিঃস্বার্থ মানুষ, যিনি জীবনের প্রায় অর্ধশতাব্দী সময় ব্যয় করেছেন বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননে—মনু মিয়া (৬৭) আর নেই। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। কেবল স্থানীয়রাই নন, দূরের মানুষজনের হৃদয়েও আঘাত হানে এই খবর।

এই সত্যিকারের মানবিক কর্মীর প্রতি ভালোবাসা জানাতে ছুটে যান জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। শনিবার (২৮ জুন) তার একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মনু মিয়ার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তিনি অনুষ্ঠান বাতিল করে সরাসরি ছুটে যান কিশোরগঞ্জের ইটনায়।

সন্ধ্যায় এক প্রতিক্রিয়ায় খায়রুল বাসার বলেন, “মনু কাকা আমার আত্মীয় না হলেও তার জীবনদর্শন আমাকে নাড়া দিয়েছে। কিছুদিন আগে ফোনে কথা হয়েছিল, বলেছিলেন বাড়িতে আসতে। আজ এলাম, কিন্তু জীবিত পেলাম না তাকে। তার ঘর, সরঞ্জাম—সব দেখে মুগ্ধ হলাম। ঠিক যেমন তিনি বর্ণনা করেছিলেন। আমি চোখে দেখলাম একজন সৎ, নির্লোভ, আলোকিত মানুষের শেষ চিহ্নগুলো।”

তিনি আরও বলেন, “পুরস্কার তো জীবনে আরও পাওয়া যাবে। কিন্তু জীবিত অবস্থায় এই মানুষটিকে শেষবার দেখতে না পারার আফসোস সারাজীবন বয়ে বেড়াত। তাই আমি মনে করি, আজ তার জানাজায় থাকা-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল।”

মনু মিয়ার অসুস্থতার সময় সংবাদমাধ্যমে তার নিঃস্বার্থ জীবনের গল্প ভাইরাল হয়। সেসময় কেউ বা কারা তার প্রিয় একমাত্র সঙ্গী ঘোড়াটিকে মেরে ফেলে। তখন খায়রুল বাসার তাকে নতুন ঘোড়া উপহার দিতে চাইলেও মনু মিয়া বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে শুধু সবার কাছে দোয়া চান।

খায়রুল বাসার তখন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন— “আজ এক নায়কের সঙ্গে দেখা হলো আমার। আমি নিজ চোখে এক সত্যিকারের নায়ককে দেখে এলাম, বুক মেলালাম তার সঙ্গে। মনু চাচা দোয়া ছাড়া কিছুই চান না। তিনি আপনাদের জন্য দোয়া করেন, যেন ভালো থাকেন।”

জীবনভর ৩ হাজার ৫৭টি কবর খুঁড়েও তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি, কারও কাছ থেকে উপহারও গ্রহণ করেননি। একাধিকবার বলেছেন, “আমি কবর খুঁড়ি আল্লাহকে খুশি করার জন্য। মানুষের উপকার করি, বিনিময়ে কিছু চাই না।”

মনু মিয়ার মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জবাসী একজন নিঃস্বার্থ সমাজকর্মীকে হারালো, আর পুরো দেশ হারালো এক মৌন মানবিক বাতিঘরকে।