বাংলাদেশ ০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

সোনাভরি নদী দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ

  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
  • / 43

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

এক সময়ের খরস্রোতা সোনাভরি নদীর ওপর সেতু ঘেঁষে অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল ভবন। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। সওদাগর নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রমিজ উদ্দিন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেলেনি কোনো প্রতিকার। ঘটনাটি উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর বাজার সংলগ্ন এলাকার।

স্থানীয়রাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে নদী দখল করে অবৈধভাবে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে নদী দখল করতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এমন কি নদী রক্ষা করতে না পারলে এক সময় সোনাভরি নদীর চিহ্ন থাকবে না।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর বাজার সংলগ্ন এলাকায় উন্নত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে টাপুরচর সড়ক ভায়া বাঞ্ছারচর এলাকায় সোনাভরি নদীর ওপর ১২০ মিটার দৈর্ঘের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু; নবনির্মিত ওই সেতু ঘেঁষে সোনাভরি নদী দখল করে পূর্বপাশে গড়ে তোলা হয়েছে দ্বিতল ভবন।

স্থানীয় মনছের আলী ও জামাল উদ্দিনসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বাঞ্ছারচর বাজার সংলগ্ন এলাকায় সোনাভরি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ সেতুর দু’পাশে গাইড ওয়ালও নির্মাণ করা হয়। ওই সেতুর গাইড ওয়ালের নিচে সেনাভারি নদী দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন একই ইউনিয়নের তিনতেলী এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি সওদাগর।

তারা আরও অভিযোগ করেন, নিমার্ণাধীন সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত ম্যানেজার মনির হোসেন মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে ওই প্রভাবশালী সওয়দাগরকে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত সওদাগরের দাবি, ‘প্রথমে ২০২৩ সালে এক শতাংশ জমি ও ২০১৬ সালে আরও তিন শতাংশ মোট ৪ শতাংশ জমি কিনে নিয়েছেন ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর সালামের কাছ থেকে। তার কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নেওয়া হয়। তাই ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক তিনি।’

সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর সালামের ভাষ্য, ‘আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তি। তাই সওদাগর নামে এক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করে দেওয়া্ হয়েছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নদী হলেও খাস খতিয়ানে যায়নি।’

তবে স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘তিনিসহ গ্রামবাসী ও এলাকার স্থানীয় মুরুব্বী (মাতাব্বর) তথা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানতে পেরেছেন, সওদাগরের ক্রয়কৃত ওই জমি, সেতু বা ওই জায়গা থেকে অনেকটা দূরে।’
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মনির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা। এছাড়া ওই স্থাপনা নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘দখলের বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। কাগজপত্র দেখে সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সোনাভরি নদী দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

এক সময়ের খরস্রোতা সোনাভরি নদীর ওপর সেতু ঘেঁষে অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল ভবন। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। সওদাগর নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রমিজ উদ্দিন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেলেনি কোনো প্রতিকার। ঘটনাটি উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর বাজার সংলগ্ন এলাকার।

স্থানীয়রাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে নদী দখল করে অবৈধভাবে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে নদী দখল করতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এমন কি নদী রক্ষা করতে না পারলে এক সময় সোনাভরি নদীর চিহ্ন থাকবে না।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর বাজার সংলগ্ন এলাকায় উন্নত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে টাপুরচর সড়ক ভায়া বাঞ্ছারচর এলাকায় সোনাভরি নদীর ওপর ১২০ মিটার দৈর্ঘের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু; নবনির্মিত ওই সেতু ঘেঁষে সোনাভরি নদী দখল করে পূর্বপাশে গড়ে তোলা হয়েছে দ্বিতল ভবন।

স্থানীয় মনছের আলী ও জামাল উদ্দিনসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বাঞ্ছারচর বাজার সংলগ্ন এলাকায় সোনাভরি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ সেতুর দু’পাশে গাইড ওয়ালও নির্মাণ করা হয়। ওই সেতুর গাইড ওয়ালের নিচে সেনাভারি নদী দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন একই ইউনিয়নের তিনতেলী এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি সওদাগর।

তারা আরও অভিযোগ করেন, নিমার্ণাধীন সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত ম্যানেজার মনির হোসেন মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে ওই প্রভাবশালী সওয়দাগরকে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত সওদাগরের দাবি, ‘প্রথমে ২০২৩ সালে এক শতাংশ জমি ও ২০১৬ সালে আরও তিন শতাংশ মোট ৪ শতাংশ জমি কিনে নিয়েছেন ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর সালামের কাছ থেকে। তার কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নেওয়া হয়। তাই ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক তিনি।’

সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর সালামের ভাষ্য, ‘আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তি। তাই সওদাগর নামে এক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করে দেওয়া্ হয়েছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নদী হলেও খাস খতিয়ানে যায়নি।’

তবে স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘তিনিসহ গ্রামবাসী ও এলাকার স্থানীয় মুরুব্বী (মাতাব্বর) তথা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানতে পেরেছেন, সওদাগরের ক্রয়কৃত ওই জমি, সেতু বা ওই জায়গা থেকে অনেকটা দূরে।’
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মনির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা। এছাড়া ওই স্থাপনা নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘দখলের বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। কাগজপত্র দেখে সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।