বাংলাদেশ ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

জুড়ীতে মেয়েকে সাঁতার শেখাতে গিয়ে পুকুরে ডুবে বাবা-মেয়ের মৃত্যু

  • আপডেট সময় : ১২:১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • / 80

অনলাইন ডেস্ক:

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মেয়েকে সাঁতার শেখাতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছে বাবা-মেয়ের। সোমবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের ইটভাটা ব্যবসায়ী বাবুল আহমদ (৬০) এবং তার মেয়ে হালিমা মোহাম্মদ (১৮)।

জানা যায়, ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী হালিমা মোহাম্মদ। এই সুযোগে বাবার কাছে সাঁতার শেখার আগ্রহ দেখান তিনি।

সোমবার বিকেলে বাবুল আহমদ মেয়ে হালিমাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পুকুরে নামেন। প্লাস্টিকের টিউবের সাহায্যে মেয়েকে সাঁতার শেখাচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে টিউব থেকে হাত ফসকে গেলে হালিমা পানিতে ডুবে যেতে শুরু করেন। মেয়েকে বাঁচাতে বাবুল নিজেও পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনই পানিতে তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত পুকুরে নেমে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুল আহমদের স্ত্রী ও চার সন্তান ঢাকায় বসবাস করেন। ঈদ উপলক্ষে কয়েক দিন আগে পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তারা। বাবুল আহমদের মানিকসিংহ এলাকায় একটি ইটভাটা রয়েছে।

আগামী ২৬ জুন শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল হালিমার।

বিকেলে নিহত বাবুল আহমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে বাবা-মেয়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। আলাদা দুটি কক্ষে বাবা-মেয়ের মরদেহ রাখা হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জুড়ীতে মেয়েকে সাঁতার শেখাতে গিয়ে পুকুরে ডুবে বাবা-মেয়ের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মেয়েকে সাঁতার শেখাতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছে বাবা-মেয়ের। সোমবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের ইটভাটা ব্যবসায়ী বাবুল আহমদ (৬০) এবং তার মেয়ে হালিমা মোহাম্মদ (১৮)।

জানা যায়, ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী হালিমা মোহাম্মদ। এই সুযোগে বাবার কাছে সাঁতার শেখার আগ্রহ দেখান তিনি।

সোমবার বিকেলে বাবুল আহমদ মেয়ে হালিমাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পুকুরে নামেন। প্লাস্টিকের টিউবের সাহায্যে মেয়েকে সাঁতার শেখাচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে টিউব থেকে হাত ফসকে গেলে হালিমা পানিতে ডুবে যেতে শুরু করেন। মেয়েকে বাঁচাতে বাবুল নিজেও পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনই পানিতে তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত পুকুরে নেমে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুল আহমদের স্ত্রী ও চার সন্তান ঢাকায় বসবাস করেন। ঈদ উপলক্ষে কয়েক দিন আগে পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তারা। বাবুল আহমদের মানিকসিংহ এলাকায় একটি ইটভাটা রয়েছে।

আগামী ২৬ জুন শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল হালিমার।

বিকেলে নিহত বাবুল আহমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে বাবা-মেয়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। আলাদা দুটি কক্ষে বাবা-মেয়ের মরদেহ রাখা হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।