সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কুড়িগ্রামে ড্রোন উড়াচ্ছে ভারত
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
- / 70
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে একের পর এক উত্তেজনাকর ঘটনার মধ্যে এবার নতুন করে দেখা দিয়েছে সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। ২৭ মে (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বড়াইবাড়ি সীমান্তের আকাশে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়, যা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক পরিচালিত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির বড়াইবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আঞ্জু মিয়া।
এর আগে একই দিনে ভোররাতে ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর থানাধীন কাকরিপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমানা অমান্য করে ১৪ জন ভারতীয় নারী ও পুরুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। বড়াইবাড়ি সীমান্তের ১০৬৭ নম্বর পিলারের নিকট সীমান্ত গেট খুলে তাদের ঠেলে দেয়া হয়। তবে বিজিবির সক্রিয় উপস্থিতিতে তারা শূন্যরেখায় আটকে পড়ে। এরপর বিএসএফ বিজিবিকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
বিজিবি শূন্যরেখায় অবস্থান নেয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গুলির ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী বিজিবির পাশে এসে শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এতে পুরো সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গুলির ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আকাশে ড্রোন উড়িয়ে সীমান্ত আইন স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে বিএসএফ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের নজরদারি ডিভাইস বা ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ হলেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভারতীয় বাহিনী স্থিতিশীল পরিবেশকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
একের পর এক এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয়রাও সীমান্তে অবস্থান করছেন, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিএসএফের এসব কর্মকাণ্ড শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।













