বাংলাদেশ ০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

পড়াশোনা কম জানায় প্রশিক্ষণ থেকে নারীকে লাঞ্চিত করে বের করে দিলেন কৃষি কর্মকর্তা

Md Sujon Mahmud
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • / 129

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ চলাকালে পড়াশোনা কম জানায় জহুরা খাতুন নামের এক নারী প্রশিক্ষনার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষি কর্মকর্তা কায়ুইম চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ মে) দুপুরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এস এ সি পি রেইঞ্জ প্রকল্প আওতায় নারী কৃষাণীদের শাক-সবজি, গবাদিপশু পালনের বিষয়ে চার দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ভুক্তভোগী জহুরা খাতুনও অংশগ্রহণ করেন।

কিন্তু পড়াশোনা কম জানায় তাকেসহ আরও চারজনকে প্রশিক্ষণ সম্মেলন কক্ষ থেকে বের করে দেন ওই কৃষি কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী জহুরা খাতুন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, শাক-সবজি, ধান ও পাট কিভাবে আবাদ করতে হয় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণে আমার নাম হয়েছিল। কিন্তু পড়াশোনা কম জানায় প্রশিক্ষণে নিয়ে আমাকে রাগারাগি করে অপমান-অপদস্ত করে রুম থেকে বের করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা আবাদ করি। এই প্রশিক্ষণ নেয়া আমাদের খুব দরকার। প্রশিক্ষণ পেলে শাক-সবজি ও গবাদিপশু পালন সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারতাম।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমি টাকা দেয়নি তাই প্রশিক্ষণ থেকে লাঞ্ছিত করে বের করে দিয়েছে। এটার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার চাই এবং আমার ট্রেনিং চাই।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কাইয়ুম চৌধুরী ঘটনার বিষয়ে স্বীকার করে বাংলা এডিশন-কে বলেন, পড়াশোনা কম জানায় ওই নারীসহ আরও চারজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই নারীর সঙ্গে আমি কোনও রাপ ইউস (খারাপ ব্যবহার) করিনি।

প্রশিক্ষণের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করণে কোনও ধরণের টাকা পয়সা লেনদেন করা হয় না। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার জুনিয়র অফিসারদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি। ওই নারী ভেবেছে আমি তাকে বলেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি আমার জুনিয়র অফিসারদের সাথে খারাপ আচরণ করতে পারি বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা এডিশন-কে বলেন, আমাদের যে ট্রেনিংগুলো হয় সেগুলো সম্পূর্ণ পারিবারিক ট্রেনিং। যে মহিলারা পারিবারিক কাজে থাকে সে ধরণের মহিলারা এখানে আসে। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়-আশয় এখানে নেই।

খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, কারও সাথে আসলে খারাপ আচরণ করা ঠিক নয়, সে যে-ই হোক। তারপরও বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পড়াশোনা কম জানায় প্রশিক্ষণ থেকে নারীকে লাঞ্চিত করে বের করে দিলেন কৃষি কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ চলাকালে পড়াশোনা কম জানায় জহুরা খাতুন নামের এক নারী প্রশিক্ষনার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষি কর্মকর্তা কায়ুইম চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ মে) দুপুরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এস এ সি পি রেইঞ্জ প্রকল্প আওতায় নারী কৃষাণীদের শাক-সবজি, গবাদিপশু পালনের বিষয়ে চার দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ভুক্তভোগী জহুরা খাতুনও অংশগ্রহণ করেন।

কিন্তু পড়াশোনা কম জানায় তাকেসহ আরও চারজনকে প্রশিক্ষণ সম্মেলন কক্ষ থেকে বের করে দেন ওই কৃষি কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী জহুরা খাতুন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, শাক-সবজি, ধান ও পাট কিভাবে আবাদ করতে হয় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণে আমার নাম হয়েছিল। কিন্তু পড়াশোনা কম জানায় প্রশিক্ষণে নিয়ে আমাকে রাগারাগি করে অপমান-অপদস্ত করে রুম থেকে বের করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা আবাদ করি। এই প্রশিক্ষণ নেয়া আমাদের খুব দরকার। প্রশিক্ষণ পেলে শাক-সবজি ও গবাদিপশু পালন সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারতাম।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমি টাকা দেয়নি তাই প্রশিক্ষণ থেকে লাঞ্ছিত করে বের করে দিয়েছে। এটার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার চাই এবং আমার ট্রেনিং চাই।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কাইয়ুম চৌধুরী ঘটনার বিষয়ে স্বীকার করে বাংলা এডিশন-কে বলেন, পড়াশোনা কম জানায় ওই নারীসহ আরও চারজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই নারীর সঙ্গে আমি কোনও রাপ ইউস (খারাপ ব্যবহার) করিনি।

প্রশিক্ষণের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করণে কোনও ধরণের টাকা পয়সা লেনদেন করা হয় না। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার জুনিয়র অফিসারদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি। ওই নারী ভেবেছে আমি তাকে বলেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি আমার জুনিয়র অফিসারদের সাথে খারাপ আচরণ করতে পারি বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা এডিশন-কে বলেন, আমাদের যে ট্রেনিংগুলো হয় সেগুলো সম্পূর্ণ পারিবারিক ট্রেনিং। যে মহিলারা পারিবারিক কাজে থাকে সে ধরণের মহিলারা এখানে আসে। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়-আশয় এখানে নেই।

খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, কারও সাথে আসলে খারাপ আচরণ করা ঠিক নয়, সে যে-ই হোক। তারপরও বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।”