ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদল, একই পদে নাম, পটুয়াখালীতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
- / 99
স্টাফ রিপোর্টার:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত একটি কলেজ কমিটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে একই পদে ছাত্রদলে স্থান দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে দলীয় আদর্শ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়ে।
কলাপাড়ার মহিপুর থানার মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গত ৬ মে রাতে অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রদল। পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদের স্বাক্ষরে ঘোষিত প্যাডে দেখা যায়, নবগঠিত কমিটির প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে সাকিব আল হাসান রাফিকে, যিনি কিছুদিন আগেই একই কলেজের ছাত্রলীগ কমিটির একই পদে দায়িত্বে ছিলেন।
শুধু সাকিব নয়, নতুন কমিটির সভাপতি মো. রবিউল ইসলামও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবিও ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (৭ মে) কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানায় ছাত্রদলেরই একাংশ। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলাম রুপু বলেন, “এই কমিটিতে ত্যাগী ও আদর্শবান কর্মীদের মূল্যায়ন হয়নি, বরং বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম দাবি করেন, “ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে আমার যে ছবি ছড়ানো হয়েছে, তা জোর করে তোলা হয়েছিল। আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতি করছি, এটা একটি ষড়যন্ত্র।”
এদিকে এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদ বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কেউ কেউ বলছে, ছাত্রলীগের রাফি আর এই রাফি এক ব্যক্তি নন। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাফসান আহম্মেদ রাকিব ফেসবুকে লিখেছেন, “মজার ব্যাপার হলো, একজন ছোট ভাই ছাত্রলীগে যে পোস্টে ছিল, ছাত্রদলেও সেই পোস্টেই আছে, শুধু নামটাই বদলেছে!”
এ নিয়ে স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের একাংশ কমিটি বাতিল করে নতুন করে গঠনের দাবি তুলেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। আদর্শ, দলীয় নীতি ও সংগঠনের মূল্যবোধের প্রশ্নে এমন সিদ্ধান্ত কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ছাত্রদলের ভেতর ও বাইরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।













