এক ঘোষণায় থেমে গেল শত শত জীবনের লড়াই
- আপডেট সময় : ০১:২৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
- / 58
রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত ৪০তম ব্যাচের ৩২১ জন সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) জীবনে যেন আকস্মিক ঝড় নেমে এসেছে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার মাত্র ১৩ দিন আগে হঠাৎ এক ঘোষণায় তাদের চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ এক বছরের প্রচেষ্টা, পরিবার-পরিজনের ত্যাগ আর স্বপ্ন—সবই ভেঙে পড়ে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
২০২৩ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার প্রার্থীকে পেছনে ফেলে তারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। এরপর রাজশাহীতে কঠোর প্রশিক্ষণও শেষের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনুপস্থিতির অভিযোগে ৩২১ জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
চাকরিচ্যুত প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায্য ও অস্বচ্ছ। তাদের কারও বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং অনেকেই একই অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে এখনও প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এক প্রাক্তন এসআই বলেন, “আমরা কেউই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিনি। নিয়মিত ক্লাস ও ফিজিক্যাল ট্রেনিং করেছি। এখন আমাদের বলা হচ্ছে চাকরি নেই। এটা মানা যায় না।”
চাকরির আশায় যারা সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন—বাড়ি-জমি বিক্রি করে, ধারদেনা করে প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের পরিবার এখন বিপর্যস্ত। কেউ কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, কেউবা ভেবেছেন আত্মহত্যার কথাও।
চাকরিচ্যুতরা এখন পুলিশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা বলছেন, “এই অন্যায়ের বিচার চাই। আমরা মেধা, নৈতিকতা ও নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে এসেছি। আমাদের জীবন যেন এভাবে শেষ না হয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আকস্মিক, অস্বচ্ছ ও অমানবিক সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিজীবনই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ও ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা বলেই মনে করছেন তারা।













