বাংলাদেশ ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে, নিজের সন্তান কে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করল বাবা

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
  • / 64

 

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাত্র আট মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের রামপাশা গ্রামে। অভিযুক্ত পিতা কাইয়ুম বিশ্বাস (৪০) শিশুটিকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিশুর মা পপি বেগম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম বিশ্বাস তার স্ত্রী পপি বেগমকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে জোরপূর্বক শিশু কন্যাটিকে ছিনিয়ে নেন। এরপর তিনি শিশুটিকে একই উপজেলার শাখরাইল গ্রামের এক নারীর কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পপি বেগম বিষয়টি ফরিদপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা আকারে উপস্থাপন করেন। মামলায় কাইয়ুম বিশ্বাস ছাড়াও তার তিন বোনসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত নগরকান্দা থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ সফর আলী জানান, “অভিযোগে যে ঠিকানার কথা বলা হয়েছে, সেখানে খোঁজ করে শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার হেফাজতের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।”

সন্তান হারিয়ে পপি বেগম এখন অসহায় ও বিধ্বস্ত। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটাকে একটিবার দেখতে চাই। যার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, তার পায়ের নিচে বসে কেঁদেছি, কিন্তু দেখতেও দেয়নি।”

ঘটনাটি নিয়ে অভিযুক্ত কাইয়ুম বিশ্বাসের বোন মিতা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে এক ব্যক্তি রিসিভ করে নিজেকে মিতার স্বামী পরিচয় দিয়ে বলেন, “ব্যস্ত আছি,” এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অপরদিকে কাইয়ুম বিশ্বাসের সঙ্গেও যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

পুলিশ ও আদালতের তদন্তে শিশু উদ্ধারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা। তারা এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে, নিজের সন্তান কে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করল বাবা

আপডেট সময় : ০১:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

 

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাত্র আট মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের রামপাশা গ্রামে। অভিযুক্ত পিতা কাইয়ুম বিশ্বাস (৪০) শিশুটিকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিশুর মা পপি বেগম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম বিশ্বাস তার স্ত্রী পপি বেগমকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে জোরপূর্বক শিশু কন্যাটিকে ছিনিয়ে নেন। এরপর তিনি শিশুটিকে একই উপজেলার শাখরাইল গ্রামের এক নারীর কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পপি বেগম বিষয়টি ফরিদপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা আকারে উপস্থাপন করেন। মামলায় কাইয়ুম বিশ্বাস ছাড়াও তার তিন বোনসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত নগরকান্দা থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ সফর আলী জানান, “অভিযোগে যে ঠিকানার কথা বলা হয়েছে, সেখানে খোঁজ করে শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার হেফাজতের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।”

সন্তান হারিয়ে পপি বেগম এখন অসহায় ও বিধ্বস্ত। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটাকে একটিবার দেখতে চাই। যার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, তার পায়ের নিচে বসে কেঁদেছি, কিন্তু দেখতেও দেয়নি।”

ঘটনাটি নিয়ে অভিযুক্ত কাইয়ুম বিশ্বাসের বোন মিতা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে এক ব্যক্তি রিসিভ করে নিজেকে মিতার স্বামী পরিচয় দিয়ে বলেন, “ব্যস্ত আছি,” এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অপরদিকে কাইয়ুম বিশ্বাসের সঙ্গেও যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

পুলিশ ও আদালতের তদন্তে শিশু উদ্ধারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা। তারা এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।