ঘুষের টাকা বেশি করে চাওয়া সেই ভূমি কর্মকর্তা আব্দুছ ছালাম মন্ডলকে প্রত্যাহার
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
- / 73
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুছ ছালাম মন্ডলকে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাকে ঘুষের টাকা গুনতে দেখা যাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সোমবার (৫ মে) রাতে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার (৪ মে) বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি প্রায় ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের। এতে দেখা যায়, বন্দবেড় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার অফিসের খাস কামরায় বিছানার ওপর বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা গুনে নিচ্ছেন আব্দুছ ছালাম মন্ডল। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “বেশি করে দেন, বড় স্যারের কাছে গেছেন যহন। কাল না কলেন ১৫ দিমু।”
ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে চর বন্দবেড় গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহেল কাফী জানান, তিনি তার ৩ একর জমির খাজনা দিতে ভূমি অফিসে যান। সেখানে আব্দুছ ছালাম মন্ডল তাকে জানায়, খাজনার পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। কাফী বলেন, “আমি জানাই যে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খাজনা দেওয়া আছে। তখন তিনি আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে ১ লাখ টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন।”
দরকষাকষির পর কাফী মোট ৭১ হাজার টাকা কয়েক কিস্তিতে পরিশোধ করেন। কিন্তু পরে দাখিলায় দেখা যায়, মাত্র ১ হাজার ৫০৫ টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ভূমি কর্মকর্তা আব্দুছ ছালাম প্রতারণা করে যে টাকা নিয়েছেন, তা ফেরত চাই এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যথাযথ বিচার দাবি করছি।”
ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুছ ছালাম মন্ডল কালবেলাকে বলেন, “বক্তব্য দেওয়া লাগলে স্যারের অনুমতি নিয়ে দেব।” এরপর তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন।
এদিকে রৌমারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও এ বিষয়ে বলেন, “জনগণেরও দোষ আছে। কাজ না হলে তারাও মাঝেমধ্যে এরকম দোষারোপ করেন। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে প্রমাণসহ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ঘুষ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।













