বিএনপির রাজনীতি করায় গেরিলা যোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল করেন মন্ত্রী মোজাম্মেল
- আপডেট সময় : ১১:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
- / 73
গাজীপুর প্রতিনিধি:
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রউফ সরকারের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে পুনরায় তার গেজেট ও ভাতা বহাল রাখা হয়েছে।
আবদুর রউফ সরকার গাজীপুরের পূবাইল থানার খিলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং ১৯৭১ সালে ৩ নম্বর সেক্টরের ১১১ নম্বর গেরিলা ইউনিটে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন বলে জানান। তার হাতে থাকা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সনদে ১৯৭২ সালে স্বাক্ষর করেন গাজীপুরের প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল্লাহ বাহার।
২০০৬ সালে তিনি উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটিতে আবেদন করেন এবং বিভিন্ন প্রমাণাদি যাচাই শেষে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির সুপারিশ করা হয়। ২০১৩ সালে গাজীপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাকে গেজেটভুক্ত করা হয়। সেই থেকে তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসছিলেন।
তবে ২০২১ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন সরকার, যিনি আবদুর রউফের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধে জড়িত, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন জমা দেন। এতে দাবি করা হয়, আবদুর রউফ সরকার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে জামুকার এক সভায় রউফ সরকারের বক্তব্য না শুনেই তার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট করে আব্দুর রউফ সরকার। আদালত রুল জারি করে তার গেজেট ও ভাতা বহাল রাখার নির্দেশ দেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা রউফ অভিযোগ করেন, সনদ ফিরে পেলেও এখনও স্থানীয় একটি চক্র তার বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে হয়রানি চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তবু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছি। সালাউদ্দিন সরকার একাধিক হত্যা মামলার আসামি, তার বিরুদ্ধেও আমি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন সরকার বলেন, “জমিসংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ থাকলেও গেজেট বাতিলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি জামুকার সিদ্ধান্ত।” তবে হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান।
সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক হত্যা মামলার কারণে তিনি পলাতক থাকায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মতো গৌরবময় অধ্যায়ের প্রশ্নে দলীয় রাজনীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থে হস্তক্ষেপ দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।













