বাংলাদেশ ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ভারত পানি দিয়ে যুদ্ধ করছে, এবার হিসেব কষে জবাব দেবে বাংলাদেশ: মির্জা আব্বাস

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 86

 

রংপুর প্রতিনিধি:

তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে আয়োজিত গণপদযাত্রায় ভারতকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “পানি কখনো মারণাস্ত্র হতে পারে না, কিন্তু ভারত সেটাকেই করেছে। এই অমানবিকতা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে তারা নদীর পানি বন্ধ করে একটি জাতির অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে।”

রবিবার (৪ মে) বিকেলে রংপুর শাপলা চত্বরে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, “তিস্তা তো শুধু একটি নদীর নাম নয়, এটি উত্তরের মানুষের জীবনের নাম, বেঁচে থাকার লড়াইয়ের নাম। আজ শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে আটকে রেখেছে ভারত। তারা বন্ধ করেছে ফারাক্কা, সুরমা, কুশিয়ারা প্রত্যেকটি নদী যেন আজ আমাদের জন্য মরুভূমির প্রতীক।”

তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “যদি শেখ হাসিনার মতো চাটুকার সরকার না থাকতো, তাহলে অনেক আগেই আমরা পানির হিস্যা আদায় করতে পারতাম। তারা ভারতের কাছে একবারও এই দাবি জোরালোভাবে তোলে নাই।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলুকে সতর্ক করে মির্জা আব্বাস বলেন, “ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে শুধু প্রতিবাদ করেছিল বলে। দুলুও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, তাকে সাবধান থাকতে হবে। তবে আমি জানি, সে উত্তরবঙ্গের সাহসী সন্তান।”

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা চোখের জল ফেলে কারও কাছে ভিক্ষা চাই না। এটা আমাদের পাওনা হিসাবের পানির হিস্যা। দিতে হবে আজ না হয় কাল। আর যদি না দেয়, তাহলে ভারতের ট্রানজিট, মোংলা, চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবও আমরা করবো।”

বক্তব্য শেষে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ লেখা টি-শার্ট পরে জাতীয় পতাকা হাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা গণপদযাত্রা শুরু করেন। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রা জেলা স্কুল পর্যন্ত যায়। এর আগে তিস্তা অববাহিকার দুর্দশা এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “তিস্তার পানি বাপের সম্পত্তি না, এটা বাংলাদেশের অধিকার। রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট আজ জেগে উঠেছে। এই আন্দোলনের বিজয় অনিবার্য। আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া দেশে আসছেন, তাঁর নেতৃত্বেই আমরা দাবি আদায় করবো।”

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, মহানগরের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব মাহফুজুন নবী ডন, জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু প্রমুখ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভারত পানি দিয়ে যুদ্ধ করছে, এবার হিসেব কষে জবাব দেবে বাংলাদেশ: মির্জা আব্বাস

আপডেট সময় : ০৮:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

 

রংপুর প্রতিনিধি:

তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে আয়োজিত গণপদযাত্রায় ভারতকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “পানি কখনো মারণাস্ত্র হতে পারে না, কিন্তু ভারত সেটাকেই করেছে। এই অমানবিকতা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে তারা নদীর পানি বন্ধ করে একটি জাতির অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে।”

রবিবার (৪ মে) বিকেলে রংপুর শাপলা চত্বরে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, “তিস্তা তো শুধু একটি নদীর নাম নয়, এটি উত্তরের মানুষের জীবনের নাম, বেঁচে থাকার লড়াইয়ের নাম। আজ শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে আটকে রেখেছে ভারত। তারা বন্ধ করেছে ফারাক্কা, সুরমা, কুশিয়ারা প্রত্যেকটি নদী যেন আজ আমাদের জন্য মরুভূমির প্রতীক।”

তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “যদি শেখ হাসিনার মতো চাটুকার সরকার না থাকতো, তাহলে অনেক আগেই আমরা পানির হিস্যা আদায় করতে পারতাম। তারা ভারতের কাছে একবারও এই দাবি জোরালোভাবে তোলে নাই।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলুকে সতর্ক করে মির্জা আব্বাস বলেন, “ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে শুধু প্রতিবাদ করেছিল বলে। দুলুও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, তাকে সাবধান থাকতে হবে। তবে আমি জানি, সে উত্তরবঙ্গের সাহসী সন্তান।”

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা চোখের জল ফেলে কারও কাছে ভিক্ষা চাই না। এটা আমাদের পাওনা হিসাবের পানির হিস্যা। দিতে হবে আজ না হয় কাল। আর যদি না দেয়, তাহলে ভারতের ট্রানজিট, মোংলা, চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবও আমরা করবো।”

বক্তব্য শেষে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ লেখা টি-শার্ট পরে জাতীয় পতাকা হাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা গণপদযাত্রা শুরু করেন। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রা জেলা স্কুল পর্যন্ত যায়। এর আগে তিস্তা অববাহিকার দুর্দশা এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “তিস্তার পানি বাপের সম্পত্তি না, এটা বাংলাদেশের অধিকার। রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট আজ জেগে উঠেছে। এই আন্দোলনের বিজয় অনিবার্য। আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া দেশে আসছেন, তাঁর নেতৃত্বেই আমরা দাবি আদায় করবো।”

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, মহানগরের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব মাহফুজুন নবী ডন, জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু প্রমুখ।