ঘুষের টাকার বান্ডিল গুনলেন ভূমি কর্মকর্তা, ভাইরাল ভিডিওতে ক্ষোভে উত্তাল এলাকাবাসী
- আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
- / 134
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম মণ্ডলের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় তিন মিনিট দীর্ঘ এই ভিডিওতে দেখা যায়, অফিসের খাস কামরায় বিছানার ওপর বসে তিনি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গুনে নিচ্ছেন। ভিডিওতে ঘুষ লেনদেনের সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “বেশি করে দেন, বড় স্যারের কাছে গেছেন যহন। কাল না কলেন ১৫ দিমু।”
এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করে কেউ একজন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওটি এখন এলাকাবাসীর মোবাইল থেকে মোবাইলে ঘুরছে এবং গণমাধ্যমেও এটি পৌঁছেছে।
ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে চর বন্দবেড় গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহেল কাফী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, তার তিন একর জমির খাজনা দেওয়ার সময় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১ লাখ ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু ভুক্তভোগী কাফী জানান, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার জমির খাজনা পরিশোধ করা রয়েছে। এরপরও আব্দুস ছালাম তাকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে ১ লাখ টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন।
দীর্ঘ দর-কষাকষির পর কাফী প্রথমে ১১ হাজার টাকার একটি কিস্তি প্রদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে মোট ৭১ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে খাজনার দাখিলা দেখে তিনি বিস্মিত হন, কারণ সেখানে মাত্র ১ হাজার ৫০৫ টাকা জমা দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি অভিযোগ করেন, বাকি অর্থটি আত্মসাৎ করেছেন ভূমি কর্মকর্তা।
আব্দুল্লাহেল কাফীর ভাষায়, “ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম প্রতারণা করে যে টাকা নিয়েছেন, তা আমি ফেরত চাই। আমি চাই এসব ঘুষ ও দুর্নীতির সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।”
ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম মণ্ডলের কাছে যান গনমাধ্যমের প্রতিবেদক। কিন্তু তিনি সোজাসাপ্টা কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, “বক্তব্য দেওয়া লাগলে স্যারের অনুমতি নিয়ে দেব।” এই কথা বলেই তিনি দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে রৌমারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, “জনগণেরও কিছু দায় থাকে। অনেক সময় কাজ না হলে তারা আমাদের ওপর দোষ চাপান। ভুক্তভোগী যদি প্রকৃত অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে তিনি আমার কাছে কিংবা ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি প্রমাণ করুন।”
এদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।













