বাংলাদেশ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

মানবিক করিডরে নিরাপত্তা শঙ্কা, সরকারের অবস্থান জানতে চান ডা. শফিকুর রহমান

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 55

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

মিয়ানমারের সহিংসতাপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে জাতিসংঘের প্রস্তাবিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডর’ বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত করিডর বাস্তবায়নে আরোপিত শর্তাবলির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টির স্বচ্ছতা ও পরিষ্কার ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “রাখাইনের সঙ্গে মানবিক করিডরের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে জাতির সামনে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত, কারণ এতে দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকতে পারে।”

এর একদিন আগে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, “রাখাইনের জন্য একটি মানবিক করিডর গঠনের প্রস্তাব এসেছে। আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি, তবে কিছু শর্ত রয়েছে। শর্তাবলি পূরণ হলে আমরা সহযোগিতা করব।” যদিও তিনি সেসব শর্তের বিবরণ দেননি।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত মার্চে ঢাকা ও কক্সবাজার সফরের সময় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেন। রাখাইনে চলমান সংঘাত, খাদ্যাভাব ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সহায়তা পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ULA)-এর সশস্ত্র শাখা ‘আরাকান আর্মি’ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ায়। বর্তমানে অঞ্চলটির অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে, ব্যতিক্রম শুধু রাজধানী সিটোয়ে ও বন্দরনগরী চকপু।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মানবিক করিডর একদিকে যেমন রাখাইনের মানবিক দুর্দশা লাঘবে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উপাদান হয়ে উঠতে পারে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে সরকারের স্পষ্ট ও সার্বিক অবস্থান প্রকাশ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মানবিক করিডরে নিরাপত্তা শঙ্কা, সরকারের অবস্থান জানতে চান ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০১:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

মিয়ানমারের সহিংসতাপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে জাতিসংঘের প্রস্তাবিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান করিডর’ বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত করিডর বাস্তবায়নে আরোপিত শর্তাবলির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টির স্বচ্ছতা ও পরিষ্কার ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “রাখাইনের সঙ্গে মানবিক করিডরের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে জাতির সামনে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত, কারণ এতে দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকতে পারে।”

এর একদিন আগে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, “রাখাইনের জন্য একটি মানবিক করিডর গঠনের প্রস্তাব এসেছে। আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি, তবে কিছু শর্ত রয়েছে। শর্তাবলি পূরণ হলে আমরা সহযোগিতা করব।” যদিও তিনি সেসব শর্তের বিবরণ দেননি।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত মার্চে ঢাকা ও কক্সবাজার সফরের সময় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেন। রাখাইনে চলমান সংঘাত, খাদ্যাভাব ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সহায়তা পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ULA)-এর সশস্ত্র শাখা ‘আরাকান আর্মি’ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ায়। বর্তমানে অঞ্চলটির অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে, ব্যতিক্রম শুধু রাজধানী সিটোয়ে ও বন্দরনগরী চকপু।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মানবিক করিডর একদিকে যেমন রাখাইনের মানবিক দুর্দশা লাঘবে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উপাদান হয়ে উঠতে পারে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে সরকারের স্পষ্ট ও সার্বিক অবস্থান প্রকাশ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।