রাখাইনে সহিংসতা বাড়ছে, নতুন করে ১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয়ের অনুরোধ ইউএনএইচসিআরের
- আপডেট সময় : ০১:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
- / 57
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত আরও প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তুরস্কভিত্তিক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান বলেন, “নতুন করে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদের অনেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু, স্কুল কিংবা মসজিদে আশ্রয় নিয়েছে। ইউএনএইচসিআর এখন চায়, এসব মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী শিবিরে স্থানান্তর করা হোক।”
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার ৬০৭টি পরিবার। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই ১ হাজার ৪৪৮টি পরিবার নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
তবে নতুন করে রোহিঙ্গা আশ্রয়ের বিষয়ে এখনো সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, “বারবার নতুন শরণার্থী গ্রহণ করলে আমাদের পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে। তাই সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।”
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে বিদ্রোহী সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’ বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের সীতওয়ে ছাড়া প্রায় পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ফলে সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের নতুন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে আরসা বিদ্রোহীদের পুলিশের ওপর হামলার জেরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়। সে সময় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ শরণার্থী বসতি হিসেবে পরিচিত।













