জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদরা পিআর পদ্ধতির জন্য নয়, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন
- আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 40
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, “পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে ভোট হবে নাকি আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন হবে—এই বিতর্কে নয়, বরং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন।” শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-তে আয়োজিত এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মেজর হাফিজ বলেন, “এখন যারা ক্ষমতার মোহে পড়েছে, তারা নানা প্যাঁচে গণতন্ত্রের সহজ পথকে জটিল করে তুলছে। অথচ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই এমন নির্বাচন সম্ভব।” তিনি পিআর পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, “ভোলার সংসদ সদস্য কুড়িগ্রামের কেউ হলে জনগণ তাকে চিনবে কীভাবে? শুধু প্রতীক দিয়ে নেতা চেনা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শহীদ পিতা বলেছেন, শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন, তা এখনো পূরণ হয়নি। এই হতাশার কারণ হলো, বর্তমান সরকার ও উপদেষ্টারা কেউই জুলাই চেতনাকে ধারণ করেন না। গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে উপদেষ্টারা কোনো প্রতিবাদ করেননি।”
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনের কৃতিত্ব অনেক সময় ভুল জায়গায় চলে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮১ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এখন সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখে। আওয়ামী লীগ তাদের আত্মীয়-স্বজনকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে।”
তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ প্রসঙ্গে বলেন, “একদিকে বিএনপি, আর অন্যদিকে ৩৪ দল—তাদের জনসমর্থনের পার্থক্য বোঝা দরকার। যেসব দল ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন ক্ষমা চেয়ে ভুল স্বীকার করছে। কিন্তু তাদের এসব কথা বলার সুযোগই বা কোথা থেকে এল?”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে মুক্তিযুদ্ধে আহত হয়েছি। আজ যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহার করছে, তাদের দেখলে কষ্ট হয়। তবে দেশের তরুণ সমাজ অত্যন্ত সাহসী ও দেশপ্রেমিক। তারাই এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোহবান, এ্যাবের সাবেক মহাসচিব আলমগীর হাসিন আহমেদ, আইইবি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খান এবং প্রকৌশলী লোকমান প্রমুখ।












