আ.লীগ রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হলে পূর্ণ মুক্তি মিলবে: ফখরুল
- আপডেট সময় : ০৪:০০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
- / 35
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে পারলে দেশ পরিপূর্ণভাবে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ’ সমাবেশে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়তে যুদ্ধ ও লড়াই শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা যেন দেশে ফিরে আসতে না পারেন এবং আর কাউকে হত্যা করতে না পারেন—সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি জানান, “আমরা আপাতত একটি ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। তবে এই মুক্তি চূড়ান্ত হবে তখনই, যখন আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করতে পারব।” তিনি বলেন, “যারা লুটপাট করে, ব্যাংক লুট করে, মানুষের সম্পত্তি দখল করে—তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। আমরা তাদের সামনে আসতে দেব না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে ফখরুল বলেন, “ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই সরকার চেষ্টা করছে। আমি আশা করেছিলাম, শহীদদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হবে। যদিও তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি, তবে সংস্কার প্রক্রিয়া শেষের পথে।” তিনি জানান, সংস্কার সম্পর্কিত বৈঠক শেষ হয়েছে এবং দুই-একদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। আমরা চাই, সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এখন এমপি না থাকায় জনগণের কোনো প্রতিনিধি নেই। সমস্যা হলে কেউ তা তুলে ধরতে পারছে না। এজন্য একটি দ্রুত নির্বাচন এবং কার্যকর পার্লামেন্ট প্রয়োজন।”
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ফখরুল বলেন, “জনগণ যেমন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর আস্থা রেখেছিল, তেমনি আজ তারা তারেক রহমানের ওপর ভরসা রাখছে। আমরা অপেক্ষা করছি, কবে তিনি দেশে ফিরে নেতৃত্ব দেবেন।” তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান নিয়মিত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার, এবং প্রান্তিক জনগণের জন্য থাকবে ‘ফার্মাস কার্ড’, ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মতো সুবিধা।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএমএ আবদুর রাজ্জাক। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, সাইফুল আলম নিরব, হাসান জাফির তুহিন, নুরুল ইসলাম নয়ন, রাজিব আহসান, সুলতানা আহমেদ, হেলাল খান, আবুল কালাম আজাদসহ শহীদদের পরিবারের সদস্যরা।












