জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / 43
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের কার্যালয় চালুর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের মতে, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সংবিধানসম্মত নয় এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মানবাধিকার রক্ষার নামে যদি দেশের সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হয়, তবে তা হতে দেওয়া যাবে না।
সোমবার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব মতামত তুলে ধরেন বক্তারা। “ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস সংক্রান্ত চুক্তিকে কেন্দ্র করে করণীয় নির্ধারণ” শীর্ষক এই আলোচনায় রাজনৈতিক নেতারা বলেন, জাতিসংঘের এই কমিশন যেন তাদের নির্ধারিত কাজের বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে না নামে—এ বিষয়ে সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আলোচনায় বলেন, “আমরাও মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফিলিস্তিন, আরাকানসহ বিশ্বের বহু স্থানে মুসলমানরা চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, সেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যায় না।” তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে যদি দেশের অখণ্ডতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা হবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়েও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন। তিনি জানান, বর্তমান প্রতিনিধির মেয়াদ শেষের পথে, এবং সম্ভাব্য নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর তথ্য শোনা যাচ্ছে, যা সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, “এই কার্যালয় স্থাপনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আমরা কাউকে খুশি করতে গিয়ে চুপ থাকতে পারি না। যারা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, তাদের ষড়যন্ত্রকেও আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।”
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “এটা এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে পুলিশ ঘুষ খায়, আবার চুরি হলে পুলিশকেই ফোন দিতে হয়। মানবাধিকার কমিশনের বিষয়টিও তেমন। ভারতীয় অপপ্রচার ঠেকাতে সরকার এই মিশন আনতে চায় বলেছে, তবে আমাদের না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনৈতিক। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চুক্তি করেই আগাতে হবে। সেই চুক্তির বাইরে মানবাধিকার কমিশন কোনো কাজ করলে আমরা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবো।”
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারকে নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অতীতে যেভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে, এই মিশন স্থাপনের পর সেই ষড়যন্ত্র আরও জোরদার হতে পারে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমান। আলোচনায় আরও অংশ নেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাহফুজুল হক, সালাউদ্দিন নানুপুরী, আহমদ আলী, মহিউদ্দিন রাব্বানী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখের মহাসচিব রেজাউল করিম এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হক।
এই আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো জাতিসংঘ মিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব তুলে ধরেছে।












