একটি দল একসময় পাকিস্তানপন্থীদের পুনর্বাসন করেছিল, এখন মুজিববাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে
- আপডেট সময় : ০৫:২১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / 37
অনলাইন ডেস্ক:
গণহত্যার বিচার ও নিরপেক্ষ, গণমুখী রাষ্ট্রীয় সংস্কার ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা একটি দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র চাই। চাই উচ্চকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, চাই স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার যথাযথ নিয়ন্ত্রণ। যেন আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক শাসন বাংলাদেশে ফিরে না আসে।”
সোমবার বিকেলে বরগুনা শহরের সদর রোডে ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, নদী ও সমুদ্র রক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিরসন এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির পক্ষপাতী। এই দেশে ভারত কিংবা পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির কোনো স্থান হবে না। একসময় একটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানপন্থীদের পুনর্বাসন করেছে, আর এখন মুজিববাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। মুজিববাদের নামে রাজনীতি এখন চাঁদাবাজ ও দখলদারদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশে একটি নতুন স্বাধীনতার সূচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বাধীনতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। বরগুনার একজন সন্তান ঢাকায় পাথর মেরে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। এটি সরকারের ব্যর্থতা এবং একটি দলীয় চাঁদাবাজ চক্রের প্রত্যক্ষ মদদের ফল।”
বরগুনাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই উপকূলীয় জেলা দুর্যোগ, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের প্রতীক। এখানকার মৎস্যজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছেন। অথচ রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়ায় না। বরগুনায় বাস্তব উন্নয়ন না পৌঁছালেও উন্নয়নের স্লোগান সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
এদিন বরগুনা যাওয়ার পথে এনসিপি নেতাদের আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ী মঞ্চে একটি পথসভায় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও সময়স্বল্পতার কারণে তারা সেখানে যাত্রাবিরতি করেননি। এতে কর্মসূচির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় কর্মীরা হতাশ হন। এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল্লাহ জানান, জেলার মূল কর্মসূচির সময়সীমার কারণে কেন্দ্রীয় নেতারা আমতলীতে অংশ নিতে পারেননি।












