বাংলাদেশ ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ছাত্রদলে শিবির থেকেও পদায়ন হয়: বহিষ্কৃত নেতা শরীফ উদ্দিনের বিস্ফোরক দাবি

  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / 51

অনলাইন ডেস্ক:

ছাত্রশিবিরের একটি ইসলামি সংগীতে অংশগ্রহণের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সরকারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে বহিষ্কারের দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিবৃতিতে শরীফ উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন—ছাত্রদলে শিবির থেকেও পদায়ন হয়ে থাকে।

শরীফ উদ্দিন বলেন, “প্রায় সাত বছর আগে, আমি যখন মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে পড়ি, তখন একটি ইসলামি সংগীতে মডেল হিসেবে অংশ নিই। তখন আমার কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমি কেবল শিল্পী হিসেবে অংশ নিয়েছিলাম। সংগীতটির শুটিং চলাকালে আমি জানতাম না এটি ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনের।”

তিনি দাবি করেন, “ওই সংগীতের কাজ হয়েছিল ‘মল্লিক একাডেমি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে। এটি সে সময় টিভিতেও কাজ করত এবং খোলামেলাভাবে অনুষ্ঠান করত। ফলে তখন বোঝা যায়নি এটি শিবিরঘনিষ্ঠ কোনো প্রতিষ্ঠান।”

রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি গ্রাম থেকে আসা একজন সাধারণ মাদ্রাসাছাত্র ছিলাম। সে সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না, ফলে না বুঝেই অংশ নিই। পরবর্তীতে এইচএসসি শেষ করার পর মল্লিক একাডেমির সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করি।”

ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার পটভূমি তুলে ধরে শরীফ উদ্দিন জানান, “২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমি কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। এর সূত্র ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই। এরপর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিই, এবং ছাত্রলীগের হামলার শিকার হই বহুবার।”

বহিষ্কার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আছেন, যারা একসময় ছাত্রলীগ বা অন্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। এমনকি জসিমউদ্দিন হলের এক নেতা, যিনি শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন, তিনিও এখন কেন্দ্রীয় সংসদে পদে রয়েছেন। এটি ছাত্রদলে ওপেন সিক্রেট।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ছাত্রলীগের দমন-পীড়নের মুখে ছাত্রদলের পতাকা ধরে রেখেছি। মাঠে জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে লড়েছি। আমার সঙ্গে বহু সিনিয়র নেতাও ছিলেন, যারা সবকিছুর সাক্ষী।”

এই বিষয়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শরীফ উদ্দিনের বক্তব্যে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে সংগঠনের ভেতরে রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ইতিহাস নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছাত্রদলে শিবির থেকেও পদায়ন হয়: বহিষ্কৃত নেতা শরীফ উদ্দিনের বিস্ফোরক দাবি

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

ছাত্রশিবিরের একটি ইসলামি সংগীতে অংশগ্রহণের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সরকারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে বহিষ্কারের দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিবৃতিতে শরীফ উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন—ছাত্রদলে শিবির থেকেও পদায়ন হয়ে থাকে।

শরীফ উদ্দিন বলেন, “প্রায় সাত বছর আগে, আমি যখন মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে পড়ি, তখন একটি ইসলামি সংগীতে মডেল হিসেবে অংশ নিই। তখন আমার কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমি কেবল শিল্পী হিসেবে অংশ নিয়েছিলাম। সংগীতটির শুটিং চলাকালে আমি জানতাম না এটি ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনের।”

তিনি দাবি করেন, “ওই সংগীতের কাজ হয়েছিল ‘মল্লিক একাডেমি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে। এটি সে সময় টিভিতেও কাজ করত এবং খোলামেলাভাবে অনুষ্ঠান করত। ফলে তখন বোঝা যায়নি এটি শিবিরঘনিষ্ঠ কোনো প্রতিষ্ঠান।”

রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি গ্রাম থেকে আসা একজন সাধারণ মাদ্রাসাছাত্র ছিলাম। সে সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না, ফলে না বুঝেই অংশ নিই। পরবর্তীতে এইচএসসি শেষ করার পর মল্লিক একাডেমির সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করি।”

ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার পটভূমি তুলে ধরে শরীফ উদ্দিন জানান, “২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমি কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। এর সূত্র ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই। এরপর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিই, এবং ছাত্রলীগের হামলার শিকার হই বহুবার।”

বহিষ্কার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আছেন, যারা একসময় ছাত্রলীগ বা অন্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। এমনকি জসিমউদ্দিন হলের এক নেতা, যিনি শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন, তিনিও এখন কেন্দ্রীয় সংসদে পদে রয়েছেন। এটি ছাত্রদলে ওপেন সিক্রেট।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ছাত্রলীগের দমন-পীড়নের মুখে ছাত্রদলের পতাকা ধরে রেখেছি। মাঠে জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে লড়েছি। আমার সঙ্গে বহু সিনিয়র নেতাও ছিলেন, যারা সবকিছুর সাক্ষী।”

এই বিষয়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শরীফ উদ্দিনের বক্তব্যে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে সংগঠনের ভেতরে রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ইতিহাস নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।