বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের ফিটনেসে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়: নুরুল হক নুর
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / 58
অনলাইন ডেস্ক:
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের যে ‘ফিটনেস’ রয়েছে, তা দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব উপেক্ষিত হওয়ায় আজ এমন জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন যে যেমন পারছে, তেমনভাবে কাজ করছে। অনেক রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।”
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত “কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন (২০১৮-২০২৪)” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভার আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ।
নুর বলেন, “জুলাই মাস বিভাজনের প্রতীক নয়। কিন্তু সম্প্রতি লন্ডনে অবস্থানরত প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। একইসঙ্গে কেউ কেউ আবার জাতীয় পার্টিকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার কথা বলছে, যা আরও বেশি হতাশার। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—জাতীয় পার্টি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী দল, তাদের ওপর কোনো আস্থা নেই। ১৪ দলের প্রশ্নে আমরা কোনো আপোস করব না। এ বিষয়ে কোনো দল কিংবা উপদেষ্টাকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “গুম হওয়া আবু সাঈদের বাবা সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তারা রাষ্ট্রীয় কোনো সহযোগিতা পাননি। তাদের এই আক্ষেপ সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন। এটাই দেখায়, ঐকমত্য কমিশনে এখনো অনৈক্যের সুর প্রবল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনে গণভোট আয়োজন করতে হবে।”
আলোচনায় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন না হলে বাংলাদেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হতো না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন সেই আন্দোলনের নামটাই কেউ উচ্চারণ করছে না। এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে আকাশ থেকে নেমে এসেছে। এটি ইতিহাস বিকৃতির সামিল, যা শুধু বিভাজন বাড়াচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে সম্মান জানাতে হবে এবং সবার কৃতিত্ব স্বীকার করতে হবে। বিভক্তি তৈরি হলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন দুর্বল হবে, আর তখন আওয়ামী লীগ আবারও ফিরে আসবে। আর যদি শেখ হাসিনা ফেরেন, তাহলে তিনি গণআন্দোলনের নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবেন—এটি জনগণ ভালো করেই জানে।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য মাহফুজুর রহমান খান। সঞ্চালনায় ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হাসান আল মামুন, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব নীলা শেখ, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা সবাই রাষ্ট্র সংস্কার, গুম-খুনের বিচার, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান।












