বাংলাদেশ ০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ইশরাক বললেন ক্ষমা চাইতে, আসিফ দিলেন ‘কড়া বার্তা’

  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 55

অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের দাবি ও আন্দোলনের প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইশরাক তাকে ‘ঢাকাবাসীর’ ব্যানারে আন্দোলন অপমান করার অভিযোগ এনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালেও, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ পাল্টা কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন—তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।

বুধবার (২৫ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অকারণে আমার ছবিতে জুতা মারার ঘটনায় কেউ কি ক্ষমা চেয়েছে? গুজবের ভিত্তিতে আমার পিতাকে ‘চালচোর’ বলে শ্লোগান দেওয়ার জন্য কেউ কি দুঃখ প্রকাশ করেছে? সরকারপক্ষ যখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিল, যারা সেটি দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা কি নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য ক্ষমা চেয়েছে?”

তিনি আরও বলেন, “নগর ভবন দখলের ঘটনায় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, আহত হওয়া, এক কোটির বেশি নাগরিকের দুর্ভোগ—এসবের জন্য কেউ কি দুঃখপ্রকাশ করেছে? বরং আমাকে ক্ষমা চাইতে বলা হচ্ছে, কারণ আমি বলেছি কিছু নেতা এই আন্দোলনে প্ররোচনা দিয়েছেন। আমি সত্যি বলেছি, এবং সেটি তিনিও জানেন। তাকে যে একটি নির্দিষ্ট কৌশলে ব্যবহৃত করা হয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন আমার পরিচিত একাধিক ব্যক্তির কাছে।”

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, ইশরাক হোসেনের অনুসারীরা ব্যক্তিগতভাবে তাকে ও তার পরিবারকে আক্রমণ করেছেন, ‘জবাই করার শ্লোগান’ও দিয়েছেন। তবুও তিনি দেড় মাস ধরে ভদ্রতা বজায় রেখেছেন, কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি।

তিনি লেখেন, “আমি ধৈর্য ধরেছি বলেই কেউ ভাববেন না যে, এসব অন্যায় জবাবহীন থাকবে। ইতিহাস সবাইকেই তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়।”

মূল বিরোধের পেছনে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে জটিলতা। আদালতের রায় ঘোষণার পরও ইশরাক হোসেন মেয়রের চেয়ারে বসতে না পারায় তিনি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে এককভাবে দায় চাপিয়ে আসছেন। তার অনুসারীরা আন্দোলনের মাধ্যমে নগর ভবন অবরুদ্ধ করে রাখেন দিনের পর দিন।

তবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করেছেন, “এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক ও সম্মিলিতভাবে গৃহীত। শপথ অনুষ্ঠানে আইনগত জটিলতা রয়েছে, তাই সরকার আয়োজন করতে পারছে না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইশরাক বললেন ক্ষমা চাইতে, আসিফ দিলেন ‘কড়া বার্তা’

আপডেট সময় : ০১:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের দাবি ও আন্দোলনের প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইশরাক তাকে ‘ঢাকাবাসীর’ ব্যানারে আন্দোলন অপমান করার অভিযোগ এনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালেও, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ পাল্টা কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন—তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।

বুধবার (২৫ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অকারণে আমার ছবিতে জুতা মারার ঘটনায় কেউ কি ক্ষমা চেয়েছে? গুজবের ভিত্তিতে আমার পিতাকে ‘চালচোর’ বলে শ্লোগান দেওয়ার জন্য কেউ কি দুঃখ প্রকাশ করেছে? সরকারপক্ষ যখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিল, যারা সেটি দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা কি নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য ক্ষমা চেয়েছে?”

তিনি আরও বলেন, “নগর ভবন দখলের ঘটনায় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, আহত হওয়া, এক কোটির বেশি নাগরিকের দুর্ভোগ—এসবের জন্য কেউ কি দুঃখপ্রকাশ করেছে? বরং আমাকে ক্ষমা চাইতে বলা হচ্ছে, কারণ আমি বলেছি কিছু নেতা এই আন্দোলনে প্ররোচনা দিয়েছেন। আমি সত্যি বলেছি, এবং সেটি তিনিও জানেন। তাকে যে একটি নির্দিষ্ট কৌশলে ব্যবহৃত করা হয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন আমার পরিচিত একাধিক ব্যক্তির কাছে।”

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, ইশরাক হোসেনের অনুসারীরা ব্যক্তিগতভাবে তাকে ও তার পরিবারকে আক্রমণ করেছেন, ‘জবাই করার শ্লোগান’ও দিয়েছেন। তবুও তিনি দেড় মাস ধরে ভদ্রতা বজায় রেখেছেন, কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি।

তিনি লেখেন, “আমি ধৈর্য ধরেছি বলেই কেউ ভাববেন না যে, এসব অন্যায় জবাবহীন থাকবে। ইতিহাস সবাইকেই তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়।”

মূল বিরোধের পেছনে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে জটিলতা। আদালতের রায় ঘোষণার পরও ইশরাক হোসেন মেয়রের চেয়ারে বসতে না পারায় তিনি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে এককভাবে দায় চাপিয়ে আসছেন। তার অনুসারীরা আন্দোলনের মাধ্যমে নগর ভবন অবরুদ্ধ করে রাখেন দিনের পর দিন।

তবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করেছেন, “এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক ও সম্মিলিতভাবে গৃহীত। শপথ অনুষ্ঠানে আইনগত জটিলতা রয়েছে, তাই সরকার আয়োজন করতে পারছে না।”