কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
- / 110
রাজিবপুর প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম-৪ (রাজিবপুর-রৌমারী-চিলমারী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় একজন অভিজ্ঞ, সংগঠকপ্রবণ ও জনপ্রিয় নেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে—অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। বর্তমানে তিনি রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে।
ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী দর্শনে অনুপ্রাণিত অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় এক অনুপ্রেরণার প্রেক্ষাপটে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মনমুগ্ধকর ভাষণ, তাঁর জীবনাদর্শ ও মৃত্যুর পর মাসব্যাপী টেলিভিশনে প্রচারিত হামদ-নাত ও জীবনী প্রামাণ্যচিত্রগুলো ছাত্র গোলাম মোস্তফার মনে গভীর রেখাপাত করে। তখন থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে। তৃণমূল রাজনীতিতে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
দলীয় দুঃসময়ে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য সুপরিচিত অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা রাজনীতিকে দেখেন জনগণের অধিকার আদায়ের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে। তাঁর নেতৃত্বগুণ, দায়িত্ববোধ ও সুসংগঠিত কার্যক্রম তাঁকে রাজিবপুর উপজেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার বিএনপির রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা একজন কর্মীবান্ধব নেতা। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর বিশ্বাস, রাজনীতি মানে জনগণের পাশে থাকা, তাদের দুঃখ-কষ্টে সঙ্গী হওয়া এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করা।
মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমি দলের পরীক্ষিত একজন কর্মী। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক আমার শক্তি। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে এ অঞ্চলকে উন্নয়নের নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমি ইতিমধ্যে তৈরি করে রেখেছি।”
তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনায় প্রধান অগ্রাধিকার পাচ্ছে চরাঞ্চলের শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। তিনি মনে করেন, “এই এলাকার শত শত শিক্ষার্থী এখনও শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।”
এছাড়া, রাজিবপুর-রৌমারী সড়কসহ অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রাকে সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এবং বিদ্যমান হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আধুনিকায়নের উদ্যোগ থাকবে তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায়।
চরাঞ্চলের কৃষিজ সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে তিনি এলাকার অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে চান। যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। পাশাপাশি, মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম ও যুবকদের সমাজ উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার কথাও বলেছেন তিনি।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ করতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান অধ্যাপক মোস্তফা।
রাজনীতির পাশাপাশি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহযোগিতা এবং উন্নয়নে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, তিনি একজন সৎ, নিরহংকারী ও মানবিক গুণসম্পন্ন নেতা, যিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করেন।
দলীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার রাজনীতি কোনো পদ-পদবির জন্য নয়, বরং আদর্শ ও দলের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আমি কাজ করি। মনোনয়ন যাঁকেই দেওয়া হোক, আমরা সবাই মিলে বিএনপিকে শক্তিশালী করব এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখব।”
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনেকেই মনে করেন, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা যদি মনোনয়ন পান এবং নির্বাচিত হন, তবে রাজিবপুর-রৌমারী-চিলমারী অঞ্চলের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।














সৎ ও যোগ্য লোককে এই দেশে নোমেনেশ দেয়া বলে জনগণ ও ভোট দেয় না। তাই দেশের দুর্নীতি অনিয়ম চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না ।
সৎ ও যোগ্য লোককে এই দেশে নোমেনেশ দেয়া না বলে জনগণ ও ভোট দেয় না। তাই দেশের দুর্নীতি অনিয়ম চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না ।