আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে : তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১২:৩০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
- / 48
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। রোববার (২৫ মে) ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ দাবি জানান।
তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারে বিএনপিসহ রাজপথে আন্দোলনরত দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
বক্তব্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশে ও বিদেশে সম্মানিত, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন অচিরেই দেখতে পাবে দেশবাসী।
তারেক রহমান বলেন, পতিত পলাতক স্বৈরাচারের আমলে দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র, রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নানা দমন-পীড়ন ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এনপিপিও সে তালিকা থেকে বাদ যায়নি। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি রাজনৈতিক পরিবেশে বর্তমানে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সংস্কার। সাংবিধানিক এবং আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি প্রায়োগিক সংস্কারেরও কোনো বিকল্প নেই। তার মতে, পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে বাস্তবভিত্তিক, কার্যকর সংস্কারই অধিক জরুরি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। এভাবেই নাগরিকদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয় এবং সরকার কোনো ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করতে পারে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হোক কিংবা অন্তর্বর্তী অথবা তত্ত্বাবধায়ক হোক—যে কোনো সরকার যদি জবাবদিহির আওতায় না থাকে, তাহলে তা ধীরে ধীরে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে। এজন্য নাগরিকদের উচিত হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনায় সোচ্চার থাকা।
সবশেষে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি নাগরিককে তার অধিকার আদায়ের দাবিতে সোচ্চার থাকতে হবে। জনগণ সরকারের করুণার পাত্র নয়। সরকার বাধ্য জনগণের কথা শুনতে এবং তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে। এখানে সরকারের কোনো মান-অভিমান বা রাগবিরাগের সুযোগ নেই।












