বাংলাদেশ ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যে ফাটল: সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • / 70

অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরতে শুরু করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সফল পরিণতি হিসেবে আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু সাড়ে নয় মাসে সেই প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা রক্ষা না করে কিছু মহলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।”

ড. মোশাররফ অভিযোগ করেন, “সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই উপদেষ্টাদের অব্যাহতি দেওয়া জরুরি।”

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাঁকেও অব্যাহতি দিতে হবে,” বলেন বিএনপি নেতা।

তিনি মানবিক করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে সরকারের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, “এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নয়, বরং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারকেই নেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “এই সরকারের একমাত্র দায়িত্ব হলো একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। অথচ সরকার মুখপাত্র বলছেন, তাদের সবকিছু করার ম্যান্ডেট আছে—এটি অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইশরাক হোসেনের মেয়র পদে শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, “আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইশরাক হোসেনকে দ্রুত শপথ গ্রহণ করানো উচিত। আইনের শাসনের জন্যই মানুষ রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ড. মোশাররফ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব সংসদ নির্বাচন। অথচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে কমিশন ঘেরাও করা হচ্ছে—এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান, যার মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ গঠনের পথ সুগম হবে বলে উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যে ফাটল: সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১২:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরতে শুরু করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সফল পরিণতি হিসেবে আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু সাড়ে নয় মাসে সেই প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা রক্ষা না করে কিছু মহলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।”

ড. মোশাররফ অভিযোগ করেন, “সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই উপদেষ্টাদের অব্যাহতি দেওয়া জরুরি।”

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাঁকেও অব্যাহতি দিতে হবে,” বলেন বিএনপি নেতা।

তিনি মানবিক করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে সরকারের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, “এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নয়, বরং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারকেই নেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “এই সরকারের একমাত্র দায়িত্ব হলো একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। অথচ সরকার মুখপাত্র বলছেন, তাদের সবকিছু করার ম্যান্ডেট আছে—এটি অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইশরাক হোসেনের মেয়র পদে শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, “আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইশরাক হোসেনকে দ্রুত শপথ গ্রহণ করানো উচিত। আইনের শাসনের জন্যই মানুষ রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ড. মোশাররফ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব সংসদ নির্বাচন। অথচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে কমিশন ঘেরাও করা হচ্ছে—এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান, যার মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ গঠনের পথ সুগম হবে বলে উল্লেখ করেন।