শিক্ষক অনড়, শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন: কুয়েটে অনিশ্চিত একাডেমিক ভবিষ্যৎ
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
- / 61
জৈষ্ঠ্য প্রতিবেদক:
৭৪ দিন বন্ধ থাকার পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আজ (৪ মে) একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকরা ক্লাসে যাননি। শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায়, শিক্ষকরা পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফারুক হোসেন বলেন, “১৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরবেন না।” একই কথা জানান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সাহিদুল ইসলাম। ১৮ এপ্রিল শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা চায়, ক্যাম্পাসে যেন দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, “আমরা শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আমাদের আন্দোলন ছিল উপাচার্যের বিরুদ্ধে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নয়। দুই মাসের বেশি সময় ক্লাস হয়নি, আমরা চাই দ্রুত সমাধান হোক।”
প্রসঙ্গত, ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যাতে আহত হন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনেও বসেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০ এপ্রিল ইউজিসির একটি প্রতিনিধিদল ক্যাম্পাসে যায় এবং উপাচার্য ও প্রোভিসির অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো হয়।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও, শিক্ষকরা এখনো ক্লাসে ফেরেননি। ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার জানান, কুয়েট প্রশাসন শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় আছে এবং একটি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এই অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিরসনের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে জোরালো প্রত্যাশা বিরাজ করছে।












