আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও বিচার দাবিতে বায়তুল মোকাররমে এনসিপির সমাবেশ
- আপডেট সময় : ১২:৩০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
- / 66
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল, দলীয়ভাবে বিচার এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (২ মে) বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সামনের সারিতে বসানো হয় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ‘গণঅভ্যুত্থানে’ আহত ব্যক্তিদের।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এতে শহীদ এবং আহতদের পরিবার সদস্যরাও অংশ নেন। বক্তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলের নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্ম শহীদদের রক্তের ঋণ থেকে। আমরা গুম-খুন-নির্যাতনের বিচার করেই ঘরে ফিরব।” তিনি আরও বলেন, “যতদিন শহীদদের রক্তের বিচার না হবে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না।”
সমাবেশে বক্তব্য দিতে উঠে শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহর পিতা বলেন, “আমার সন্তানের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া যায় না।”
সমাবেশ সফল করতে গুলিস্তান, বাংলামটর, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে এনসিপি। এসব লিফলেটে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলের সাতটি ‘গুরুতর অপরাধ’ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন-ক্রসফায়ারে হাজারো মানুষের প্রাণহানি, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ‘ভোটবিহীন’ নির্বাচন, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘গণহত্যা’, দুর্নীতি ও অর্থপাচার, ২০২১ সালের মোদি-বিরোধী আন্দোলনে ‘নির্যাতন’ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘গণহত্যা’।
লিফলেটে এনসিপি চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো, প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন গঠন করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার; আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল; বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখা এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ‘ভোটবিহীন নির্বাচনে’ জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।












