চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া, সঙ্গে থাকছেন দুই পুত্রবধূ
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
- / 47
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চার মাসের চিকিৎসা ও বিশ্রাম শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আগামী সোমবার (৫ মে) লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন তিনি। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে থাকছেন দুই পুত্রবধূ, ডা. জোবায়দা রহমান (তারেক রহমানের স্ত্রী) এবং সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি (আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী)।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, “ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন।”
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দেশে আনা হচ্ছে। যদিও পুরোপুরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা থাকছে না, তবে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে আরও রয়েছেন, চিকিৎসক ডা. আমিনুল হক চৌধুরী, এপিএস মাসুদুর রহমান এবং দুই গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম ও রূপা হক।
দীর্ঘদিন ধরেই বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও আর্থ্রাইটিসসহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। লন্ডনে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার লিভারে টিপস (TIPS) পদ্ধতিতে বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং হৃদযন্ত্রে স্টেন্টিংয়ের পরবর্তী পর্যবেক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “ক্রনিক কিডনি ডিজিজসহ অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা করা হয়েছে। করোনার পরবর্তী কিছু জটিলতাও এখন নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল।”
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হন। পরে সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হলেও শর্ত ছিল, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তবে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমতিতে তিনি ৭ জানুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গমন করেন।
সেখানে দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বড় ছেলে তারেক রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন খালেদা জিয়া।
সূত্র জানিয়েছে, দেশে ফেরার পর ডা. জোবায়দা রহমান তার বাবার ধানমন্ডির বাসায় অবস্থান করবেন। আর বেগম জিয়ার নিজস্ব বাসস্থান ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।












