কেন হঠাৎ জামায়াতের উপর ক্ষেপলেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন!
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
- / 75
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা এবং তাদের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মার জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি। কেন হঠাৎ ইলিয়াস হোসেন জামায়াতের উপর ক্ষেপলেন এবং এই বিতর্কের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে।
ইলিয়াস হোসেন, যিনি তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় পঁইতাল্লিশ লাখ সাবস্ক্রাইবার নিয়ে জনপ্রিয়, সম্প্রতি একটি ভিডিওতে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. তাহের ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট এবং তিনি ভারতের পক্ষে লবিং করেন। এই অভিযোগ জামায়াতের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
জামায়াতে ইসলামী এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাদের কেন্দ্রীয় প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। ডা. তাহের নিজেও বলেন, জামায়াত একটি নৈতিক সংগঠন এবং তার বা দলের কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তারা ইলিয়াসের কাছে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
কিন্তু কেন ইলিয়াস হঠাৎ জামায়াতের উপর এতটা ক্ষুব্ধ? প্রথমত, তিনি হয়তো বিশ্বাস করেন যে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, যদিও তিনি এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি। অনেকেই মনে করেন, তার জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে বিতর্কিত কন্টেন্ট দর্শকদের আকর্ষণ করে, এবং জামায়াতের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অভিযোগ তার চ্যানেলের ভিউ বাড়াতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ইলিয়াসের জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এই সমালোচনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি প্রায়ই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘদিনের বিরোধিতার অংশ হতে পারে।
তৃতীয়ত, কিছু এক্স পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ইলিয়াস বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বা তাদের স্বার্থে কাজ করেন। যদিও এটি প্রমাণিত নয়, তবু তার সমালোচনা জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে।
এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সন্তোষ শর্মার জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি। দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মার বিরুদ্ধে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং আটককৃত আলেমদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তার এই উপস্থিতি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব হারুন ইজহার এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সন্তোষ শর্মার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে পুলিশের উপর প্রভাব বিস্তার, প্রেস অ্যাক্রিডেশন কার্ড বাতিল এবং দুদকে তদন্তের নির্দেশ। জামায়াতের এই অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি তাদের ইমেজের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, এবং এটি ইলিয়াসের সমালোচনাকে আরও উসকে দিতে পারে।
তাহলে, এই বিতর্কের পেছনে আসল সত্য কী? ইলিয়াস কি সত্যিই গুরুতর কিছু উন্মোচন করছেন, নাকি এটি তার জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের মিশ্রণ? সন্তোষ শর্মার উপস্থিতি এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভেদ এবং সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকাকে তুলে ধরে। আরও তথ্য ছাড়া এই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ কঠিন, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গভীর প্রভাব ফেলছে।












