বাংলাদেশে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু: যেভাবে পেতে পারেন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
- / 68
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বের বিখ্যাত স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে স্টারলিংকের সাবেক টুইটার, বর্তমান এক্স (X) হ্যান্ডেলে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের জনগণ উচ্চগতির, নিরবিচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার আরেকটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
স্টারলিংকের ইন্টারনেট সংযোগ পেতে হলে প্রথমেই ভিজিট করতে হবে প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। সেখানে ‘Residential’ এবং ‘Roam’ নামে দুটি অপশন পাওয়া যাবে। ‘Residential’ অপশনটি মূলত বাসাবাড়ির জন্য নির্ধারিত, আর ‘Roam’ হলো চলমান বা ভ্রাম্যমাণ সংযোগের জন্য। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার শুধুমাত্র ‘Residential’ সংযোগের অনুমোদন দিয়েছে।
‘Residential’-এ গিয়ে ‘Order Now’ বাটনে ক্লিক করে ব্যবহারকারীকে তার অবস্থান নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘Checkout’ অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ ও অর্থ প্রদান সম্পন্ন করে ‘Place Order’ এ ক্লিক করলেই অর্ডার সম্পন্ন হবে। অর্ডার করার তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সেটআপ কিট গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। স্টারলিংক জানায়, ব্যবহারকারী নিজেই সহজে এই সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন।
স্টারলিংকের সেবার জন্য গ্রাহকদের কিছু নির্দিষ্ট সরঞ্জাম কিনতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে রিসিভার, অ্যান্টেনা, রাউটার এবং পাওয়ার সাপ্লাই। এই সরঞ্জামগুলোর সমন্বয়ে গঠিত স্টারলিংক কিটের মূল্য নির্ভর করে ভ্যারিয়েন্টের ওপর, যা ৩৪৯ ডলার থেকে ৫৯৯ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। টাকায় যা প্রায় ৪৩,০০০ থেকে ৭৪,০০০ টাকা।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দেশে স্টারলিংকের ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখনো দেশের অনেক চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম গ্রামগুলোতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছায়নি। স্টারলিংকের মাধ্যমে এই দুর্গম অঞ্চলেও ডিজিটাল সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, স্টারলিংক পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার ওপরে নিম্ন-কক্ষপথে অবস্থানরত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। এটি প্রচলিত ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা ভূস্থির (Geostationary) স্যাটেলাইটের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত এবং কম বিলম্বিত সেবা দিতে সক্ষম। বর্তমানে স্টারলিংকের সেবা বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে চালু রয়েছে।
এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোকে ইন্টারনেট সংযুক্ত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে আশা করা যাচ্ছে।
















