মোদির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ‘চুপ’ রাখার অনুরোধ করেছিলেন ড. ইউনূস
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
- / 77
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, ভারতের ভূমিকা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) আলজাজিরায় সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। এতে আলজাজিরার খ্যাতিমান সাংবাদিক নিয়েভ বার্কার সরাসরি বিভিন্ন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জানান, সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি মোদিকে অনুরোধ করেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেন নীরব রাখা হয়, কারণ তার প্রকাশ্য বক্তব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করছে।
ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি মোদিকে অনুরোধ করেন, শেখ হাসিনাকে এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করার জন্য।
তবে মোদির জবাব ছিল স্পষ্ট: ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিদ্যমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবার জন্য উন্মুক্ত এবং ব্যক্তিগতভাবে কারও বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না।”
আলজাজিরার সাংবাদিক নিয়েভ বার্কার এ সময় প্রশ্ন করেন, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে কিভাবে দেখছে। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তার বক্তব্য তাদের একান্ত ব্যাপার হলেও, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার চায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না যা দেশের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, শেখ হাসিনার কার্যকলাপের কারণে দেশে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ড. ইউনূস সাক্ষাৎকারে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক স্থিতি বজায় রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং দেশের জনগণের সমর্থন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জুলাই মাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে, যা ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দেশ ছাড়েন। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে বিভিন্ন সময় বিবৃতি দিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আলজাজিরা










